বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত ঋণের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ও এস আলম গ্রুপের ব্যাংক দখলের অভিযোগ দেশের ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। এই অনাস্থার পরিবেশ আরও জটিল হয়েছে পাঁচটি পৃথক ব্যাংক একত্রিত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর। নতুন এই সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমানতকারীদের ভরসা দ্রুত কমে যাওয়ায় তাদের নগদ উত্তোলনের ওপর ২ লাখ টাকার সীমা আরোপ করা হয়েছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই সীমাবদ্ধতা ও গভীর বিশ্বাসহীনতার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংক খাতে বর্তমানে মোট আমানতের পরিমাণ নেমে এসেছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই খাত থেকে ৪ হাজার ২০১ কোটি টাকার জমা হ্রাস পেয়েছে, যা খাতটির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর সংকেত। পাশাপাশি, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত এক বছরে এই আয়ের পরিমাণ ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের জুন মাসে (২০২৬) প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ডলারে, যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং খাতটির দুর্বলতার আরেকটি দিক ফুটিয়ে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা এবং একটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগই বর্তমান সংকটের পেছনের প্রধান চালিকাশক্তি। নতুন ব্যাংকের গঠন ও নগদ উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা একসাথে মিলে গ্রাহকদের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা ও নিরুৎসাহের জন্ম দিয়েছে। ফলে আমানত কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সামগ্রিক ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদি দ্রুত আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে এই খাতের অবস্থার আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




