যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। সেখানে তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অনুদান, সহজ শর্তে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুরোধ জানান। স্থানীয় সময় ১৩ জুলাই এই ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বর্তমান সরকার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তবে নতুন সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতির সম্মুখীন। এই ঘাটতির বড় অংশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো খাতে। পাশাপাশি ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশ ৩৭ শতাংশ অর্থায়ন ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না, যার তাৎক্ষণিক পরিমাণ প্রায় ২৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিপুল আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও চরম দারিদ্র্য হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বজনীন ভর্তি এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো এসডিজি অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামো এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রূপান্তরমূলক যাত্রা শুরু হয়েছে।
জোনায়েদ সাকি জানান, নতুন সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়েছে। পানিনিরাপত্তা বৃদ্ধি, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস ও প্রতিবেশব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হবে। এছাড়া ২৫ কোটি চারা রোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং সবুজ শিল্প ও পরিবহন খাতকে উৎসাহিত করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নারীদের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।



