নবনিযুক্ত বাংলাদেশ হকি দলের প্রধান কোচ পিটার গেরহার্ড তারকা ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমির ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে ‘বাংলাদেশের মেসি’ এবং ‘বাংলাদেশের হকির প্রিন্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৭৮ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ স্মৃতিচারণ করে জানান, তার দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি কেবল দুইজন ‘ভেরি ডিফিকাল্ট’ খেলোয়াড় পেয়েছেন। এরা হলেন ভারতীয় কিংবদন্তি ধনরাজ পিল্লাই ও বাংলাদেশের জিমি।

গেরহার্ডের ভাষায়, পিল্লাই জিমির চেয়ে অনেক বেশি অহংকারী ছিলেন। তিনি ২০০৪ সালের অলিম্পিকের একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘ভারতের কোচ থাকাকালে হাফটাইমে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেওয়ার সময় ধনরাজ মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ছিল।’ অন্যদিকে জিমির বিশেষত্ব সম্পর্কে গেরহার্ড মন্তব্য করেন, ‘মেসি যেমন, তেমনি জিমিও ম্যাচের ভাগ্য গুটিকয়েক বিশেষ মুহূর্তেই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। পূরো ৬০ মিনিট ধরে তাকে সমান তালে খেলার প্রয়োজন নেই, দুই-তিন মিনিটের ঝলকানিই তার জন্য যথেষ্ট।’

জিমিও তার প্রিয় কোচকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বয়সের কারণেত আগে বাদ পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ‘আমার ১৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে গেছে। দ্বিশতক ছোঁয়ার মাত্র ৬টি ম্যাচ বাকি। চূড়ান্ত দলে জায়গা পেলে এই লক্ষ্য পূরণের সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’ কোচ গেরহার্ডকে পুনরায় দায়িত্বে পাওয়া দলের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন জিমি, কারণ তার মতে, নতুন কোচের জন্য দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে যে সময় লাগে, গেরহার্ডের ক্ষেত্রে তা লাগবে না। শিগগিরই আরও দুজন জার্মান কোচিং স্টাফে যোগ দেবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শরীর ও বয়স নিয়ে প্রশ্নে গেরহার্ডের উত্তর ছিল স্পষ্ট, ‘বয়স কেবল একটি সংখ্যা।’ তিনি জানান, প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে জিম ও সাইক্লিং করেন। ১০৫ কেজি ওজন হলেও ধুমপান বা অ্যালকোহল কখনও স্পর্শ করেননি, তবে প্রচুর মিষ্টি খেয়েছেন। জাপানে আসন্ন এশিয়ান গেমসেই ভালো করার লক্ষ্যে ‘মিশন ইম্পসিবল’ কে সম্ভব করতে চান গেরহার্ড। মাত্র ছয় সপ্তাহের প্রস্তুতির সময়কে চ্যালেঞ্জ বলেই আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয় ছন্দ আয়ত করতে পারলে এশিয়ান গেমসে প্রতিপক্ষ দলগুলো আমাদের সামনে বেশ বেগ পাবে।’ এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরি বাংলাদেশ দল জার্মানিতে উন্নত অনুশীলনের জন্য যাত্রা করবে এবং সেখানকার ক্লাবগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।

এদিকে, ভাসানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘ট্রেইন ইউর মাইন্ড’ শীর্ষক এক বিশেষ কার্যক্রম। ‘স্বপ্ন নয়, এবার ইতিহাস’ স্লোগানের এ আয়োজনে জাতীয় দলের ৩৮ জন খেলোয়াড়কে মানসিক দৃঢ়তা, মনোযোগ ও চাপ সামলানোর বিশেষ কলাকৌশল শেখানো হয়েছে। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুল এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, ‘কিভাবে মানসিক চাপ সামলে একটি দল হিসেবে খেলতে হয়, এই সেমিনারে তা শেখানো হয়েছে। একজন খেলোয়াড়ের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি জরুরি এবং আমি বিশ্বাস করি এশিয়ান গেমসেই এর সুফল মিলবে।’