খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়ক থেকে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন (১৬)। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন এবং বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।

পুলিশের দাবি, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আরফানার এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি তাকে অন্য একজনের সঙ্গে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়। তবে আগের সম্পর্কের ব্যক্তির কাছেই ফিরে যেতে চাইলে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মা আরিফা ইয়াসমিন তাকে মারধর করেন। পরে বাবা আলিম হোসেন কাঠের ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে কিশোরীর মৃত্যু হয়।

হত্যার পর আরফানার মরদেহ কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত বস্তায় ভরা হয়। এরপর বস্তাটি মোটরসাইকেলে করে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে যান তার বাবা। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে ১০ জুলাই খুলনা সদর থানার পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করে। পরে আরফানার মা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম এম শাকিলুজ্জামান, উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) রেজাউর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম, খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে আরফানার বাসায় গিয়ে মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় পলাতক বাবা আলিম হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।