ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সুমন আহমেদ (২৫) নামের বিবাহিত এক দিনমজুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আটকের পর আজ শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার কৃতকর্ম স্বীকার করেছে।
মামলার এজাহার, স্থানীয় পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে নিজ বাড়ির পাশে খেলারত অবস্থায় ওই শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান সুমন। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয় এবং কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়। ঘটনার পর থেকে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পেটে ব্যথা অনুভব করতে থাকে। মা বারবার জিজ্ঞাসা করলেও ভয়ে সে প্রথমে কিছুই জানায়নি। গতকাল দুপুরে প্রতিবেশী শিশুরা তাকে খেলতে ডাকলে সে নিজের অসুস্থতার কথা জানায়। পরে এক প্রতিবেশী শিশুকে সে খেলার ছলে ধর্ষণের বিষয়টি খুলে বলে। সেই শিশুটি অন্যদের জানালে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত তার মায়ের কাছে পৌঁছায়।
এদিকে, গতকাল রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শিশুটিকে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামীকাল শনিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। শিশুটির মা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমার মেয়ের পেটে ব্যথা, সে কিছু খেতে পারে না। কিন্তু ভয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। গতকাল যখন আমরা জানতে পারলাম, তখন এলাকার লোকজন সুমনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই মেয়ের মধ্যে এই মেয়ে বড় ছিল। তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার উপযুক্ত বিচার আমি চাই।’
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি প্রথমে এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। পরবর্তীতে খেলতে গিয়ে আরেক শিশুকে সে ঘটনার বিবরণ দেয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




