নারায়ণগঞ্জ জেলাকে মেট্রোরেল (এমআরটি) প্রকল্পের আওতায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। গত ২২ জুলাই তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি প্রেরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সেই আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৩০ জুলাইয়ের চিঠিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যের আবেদনে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে এমআরটি লাইন প্রকল্পের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবেদনপত্রে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের মাধ্যমে যানজট হ্রাস, পর্যটন শিল্পের প্রসার, পরিবেশবান্ধব শিল্পের বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টির যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ নামে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করেন। শিল্পপ্রধান এই জেলায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি ছোট ও বড় কারখানা রয়েছে। দেশের নিটওয়্যার উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশই এই জেলায় উৎপাদিত হয় বলে তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন। এছাড়া হোসিয়ারি, জামদানি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অসংখ্য কারখানাও এখানে অবস্থিত।

প্রাচীন রাজধানী পানাম সিটি এবং মোঘল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনে সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন। সেই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে প্রতিদিন আনুমানিক চার লাখ মানুষ নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু গণপরিবহনের অপ্রতুলতা এবং তীব্র যানজটের কারণে এই যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করলে জনসাধারণের যাতায়াত সহজ হবে এবং শিল্প-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকার জন্য একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী—এই ছয় জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় এমআরটি লাইনের রুটে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, ভূঁইগড়, জালকুড়ি, শিবু মার্কেট ও চাষাঢ়া হয়ে নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সংযোগের কথা ছিল, যা ছিল যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। তবে পরবর্তী সময়ে এমআরটি লাইনের রুট পরিবর্তন করে নারায়ণগঞ্জ শহরের সংযোগ বাদ দেওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে নারায়ণগঞ্জবাসী মেট্রোরেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। সংসদ সদস্য তার চিঠিতে এই অংশটি পুনরায় এমআরটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির সরকার দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি শিগগিরই নারায়ণগঞ্জ এমআরটি লাইনে যুক্ত হবে।’