রোববার ইরানের বিভিন্ন স্থানে তৃতীয় দফায় বিমান হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এই অভিযানের সূত্রপাত ঘটে হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হামলার পরিপ্রেক্ষিতে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, উক্ত হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে জাহাজটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখতে ব্যর্থ হয়। ঘটনায় একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। আসালুয়েহ এলাকায় চারটি এবং বুশেহর প্রদেশের বন্দর-ই-দায়েরে পাঁচটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, বন্দরনগরী আব্বাস ও সিরিকে তিনটি করে বিস্ফোরণ হয়েছে। চাবাহারে অন্তত দুটি এবং হরমুজগান প্রদেশের জাসকে ১০টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে, খুজেস্তান প্রদেশের বন্দর-ই-মাহশহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার তথ্য দিয়েছে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর।
সেন্টকম আরও উল্লেখ করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই এই চলমান মার্কিন অভিযানের লক্ষ্য। এর আগে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল এবং দাবি করেছিল যে একটি জাহাজ নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করে অননুমোদিত পথে চলাচল করছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করায় জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়, তবে জাহাজটির বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে কোনো পাল্টা পদক্ষেপের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের জন্য ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছিল।




