যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের বাণিজ্যের চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের (জানুয়ারি-মে) পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)। তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৯.২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৮.৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩১.৭১ বিলিয়ন ডলার। সামগ্রিক চাহিদা সংকোচনের প্রভাব বিভিন্ন সরবরাহকারী দেশে মিশ্রভাবে পড়েছে।

এই বাজারে শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছে ভিয়েতনাম। দেশটি ৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১.৫ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ৩.২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পাঠিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.১ শতাংশ কম। তবে বাংলাদেশের পতনের হার সামগ্রিক বাজার সংকোচনের হারের চেয়ে কম, যা নির্দেশ করে চাহিদা কমার কারণেই মূলত বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা চীন তার অবস্থান হারাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীন ২.৮০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২.৭৫ শতাংশ কম। এ সময়ে চীনের রপ্তানির পরিমাণও প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা চীন থেকে ব্যবসা সরিয়ে নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে চীন তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে, যদিও গত বছর দ্বিতীয় স্থানে ছিল।

চীনের হারানো বাজার দখলে এগিয়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। প্রথম পাঁচ মাসে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ৫.৪৯ শতাংশ বেড়ে ১.৯৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, আর কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১৪.৯ শতাংশ বেড়ে ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান দুর্বল হয়েছে — তাদের রপ্তানি ২৬.৩৭ শতাংশ কমে ১.৭৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যার ফলে ভারত চতুর্থ থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। চতুর্থ স্থানটি দখল করেছে ইন্দোনেশিয়া, আর ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া।

বছরের শুরুর দিকে চাহিদা কম থাকলেও মে মাসে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি ২.৭৭ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৬ শতাংশ। তবে প্রতিযোগী চীনের রপ্তানি ১৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ২৩ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১৮ শতাংশ বেড়েছে এই মাসে।

মূল্যের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান স্থিতিশীল। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ছিল ২.৯৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কম। বৈশ্বিক গড় ইউনিট মূল্য ছিল ৩.১৪ ডলার। প্রতিযোগী চীনের গড় ইউনিট মূল্য ১.৪৩ ডলার, পাকিস্তানের ২.৫৯ ডলার ও কম্বোডিয়ার ২.৯১ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে কম। অন্যদিকে ভিয়েতনামের ৩.৩৯ ডলার, ভারতের ৩.৪১ ডলার, হন্ডুরাসের ৩.৬৪ ডলার, ইন্দোনেশিয়ার ৩.৭৭ ডলার ও মেক্সিকোর ৪.৪৫ ডলার গড় ইউনিট মূল্য বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।