সপ্তাহের শুরুতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বেশির ভাগ প্রধান মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। রোববার লেনদেনের প্রথম দিনে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৯৭ পয়সায়, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক মাস পর ডলারের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারণে গত কয়েক মাস ধরেই বিদেশি মুদ্রার দাম অস্থির রয়েছে। তবে বাড়তি দামের ধারাই বেশি দেখা যাচ্ছে। আজকের বাজারে ডলার ছাড়াও ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, অস্ট্রেলীয় ডলার, ভারতীয় রুপি, চীনা ইউয়ান, সিঙ্গাপুরি ডলার ও জাপানি ইয়েনের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার এই তালিকায় স্থান পেয়েছে বেশ কয়েকটি প্রধান মুদ্রা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত হারের চেয়ে খোলাবাজারে এসব মুদ্রার দাম কিছুটা বেশি। সাধারণত খোলাবাজার ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মধ্যে বিনিময় হারের পার্থক্য থাকে, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতেও লক্ষণীয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের এই ওঠানামা সরাসরি দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচকে প্রভাবিত করে। ব্যবসায়ীদের জন্য এই দরপতন বা দরবৃদ্ধি লাভ-ক্ষতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও দেশীয় চাহিদার কারণে অদূর ভবিষ্যতে ডলারের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহও বিনিময় হারের ওপর প্রভাব ফেলে। আজকের দরবৃদ্ধি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, তবে এটি স্বাভাবিক বাজার প্রক্রিয়ার অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




