চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত সপ্তাহে কেঁওচিয়া গ্রামের প্রায় সব ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। ১০ জুলাই গ্রামটিতে পানি প্রবেশ করলে আবদুল মালেক (৪২) নামের এক দরজির টিনের বেড়ার বসতঘরটিও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। তবে বিপদ আঁচ করে তিনি পরিবারসহ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তিন দিন পানিতে ডুবে থাকার পর গত সোমবার তার ঘরটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।

বর্তমানে আবদুল মালেকের ভিটায় জমে আছে পুরু কাদা। ঘরের কোনো আসবাবপত্র তিনি উদ্ধার করতে পারেননি। ধসে যাওয়া ঘরের নিচে চাপা পড়ে আছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ভেঙে গেছে মাটির চুলাও। ঘরের বেড়া ও টিন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে বাড়ির এ অবস্থা দেখে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে এখন তিনি এক স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।

পেশায় দরজি মালেক সেলাইয়ের কাজ করে দৈনিক ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন। স্বল্প আয়ের কারণে বাসা ভাড়া করে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। গতকাল বুধবার দুপুরে কেঁওচিয়া গ্রামে গেলে আবদুল মালেকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি তখন ভিটার এক কোণে মাথায় হাত দিয়ে বসেছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ত্রাণের খুব দরকার নেই। একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। থাকার ঘর দেন। কাজ করে কোনো রকম স্ত্রী ও দুই মেয়েকে খাওয়াতে পারছি। কিন্তু ঘর তৈরি করার এত টাকা কোথায় পাব। সরকার যেন আমাদের জন্য দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে।’ আবদুল মালেক জানান, ঘরটি তার পৈতৃক সম্পত্তি; নিজে তিনি এটি তোলেননি। নতুন করে টিন ও নির্মাণসামগ্রী কেনার টাকা তার কাছে নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সব কটিই পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। এখন শুধু নলুয়া ও আমিলাইশ ইউনিয়নে কিছুটা পানি রয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করছি। আবদুল মালেকের বিষয়েও আমরা খোঁজ নেব। এরপর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন শুরু করব।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যায় কেঁওচিয়া গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে বা আত্মীয়ের বাড়িতে বসবাস করছে।