টানা নবম মাস ধরে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রেখে জুলাইয়ে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি ৪.৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।

ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) এই সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী মাসগুলোতে নীতিগত হার সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মূল্যস্ফীতির এই ক্রমবর্ধমান ধারা মূলত খাদ্য ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

এদিকে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে ভারতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা মন্থর হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আসন্ন মাসগুলিতে মূল্যস্ফীতির হার ৪ শতাংশের উপরে স্থিতিশীল থাকে এবং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চাপ সৃষ্টি করে, তবে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে নীতিগত হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে কিছুটা শ্লথ করতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির এই হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত বছরের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩.৫ শতাংশের কাছাকাছি, যা বর্তমানে বেড়ে ৪.৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোক্তা ও ব্যবসায়িক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।