বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের মালিক জিই ভেরনোভা। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৌশলগত রূপান্তর, যেখানে নভিডিয়া এবং পারমাণবিক শক্তি স্টার্টআপ ব্লু এনার্জির মতো নতুন গ্রাহকরা এখন গবেষণা ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে স্বতন্ত্র পাবলিক কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকে জিই ভেরনোভার শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬০০ শতাংশেরও বেশি। এই অসাধারণ অগ্রগতির নেপথ্যে রয়েছে সিইও স্কট স্ট্রাজিকের সুনিপুণ পরিকল্পনা। সম্প্রতি ফরচুনের সিইও ডেইলি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "আমাদের জন্য আসল লক্ষ্য হলো বিশ্বকে বিদ্যুতায়িত করা। আর যদি আমরা বিশ্বকে বিদ্যুতায়িত করতে পারি, তাহলে বিশ্বকে কার্বনমুক্ত করাও সম্ভব হবে।"

গ্যাস, বায়ু, বাষ্প, জলবিদ্যুৎ বা পারমাণবিক শক্তি — যেকোনো মাধ্যমে বিশ্বের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২৫ শতাংশই জিই ভেরনোভার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের জন্য সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতিও তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। তিনটি ভিন্ন কোম্পানিতে বিভক্ত হওয়ার পর জিই ভেরনোভা ফরচুন ৫০০-এর তালিকায় ১২৪তম, জিই অ্যারোস্পেস ১০১তম এবং জিই হেলথকেয়ার ২১৭তম অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত জটিলতা ও রূপান্তরের গতি সম্পর্কে স্ট্রাজিকের মন্তব্য, "এআই কারখানা চালানোর জন্য গ্রাহকরা যেভাবে চান, তা আমাদের নিয়মিত পণ্যের চেয়ে অনেক বেশি জটিল — এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো দিক।" তিনি আরও বলেন, "আমরা তাদের সাহায্যের জন্য যে প্রযুক্তি তৈরি করছি, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর গ্রিডেও প্রযোজ্য হবে। তবে এই শেখার বক্ররেখার বেশিরভাগ খরচ তারা বহন করবে।"

অতীতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকলেও আবেগপ্রবণ নন স্ট্রাজিক। তিনি উল্লেখ করেন, "বর্তমানে আমাদের ২৫ শতাংশ কর্মী স্পিন-অফের দিন প্রতিষ্ঠানের অংশ ছিলেন না। তারা জিই-কেই চেনেন না।" একই চিত্র গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও — স্পিন-অফের পর থেকে ২৫ শতাংশ নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। স্ট্রাজিকের ভাষ্যে, "প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো, যারা ঐতিহাসিকভাবে আমাদের কাছ থেকে সরাসরি কেনাকাটা করত না, তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক ও কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।"

প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবসম্পদ নিয়েও ভাবছেন স্ট্রাজিক। তার মতে, "আমাদের এমন তরুণ দরকার যারা কিছু তৈরি করতে আগ্রহী, কারণ আগামী দশকে আমাদের অনেক কিছু নির্মাণ করতে হবে।" আধুনিক শিল্পবিপ্লবের এই যুগে জিই ভেরনোভার এই রূপান্তর কৌশল অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।