মাঠে ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন করলেন ভারতের তরুণ ক্রিকেট সংবেদন বৈভব সূর্যবংশী। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবেমাত্র সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর নিজের ব্যাটিং দর্শনের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো জটিল রহস্য নয়; বরং অনুশীলনে যে ধরনের শট তিনি রপ্ত করেন, মাঠের লড়াইয়েও সেগুলোই প্রয়োগ করবার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান।

সূর্যবংশীর কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি ছিল মাত্র দ্বিতীয় সিরিজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে ব্যর্থতার পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে তিনি পুরোদমে জ্বলে ওঠেন। তিন ম্যাচের সিরিজে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। পুরো সিরিজে দুটি অর্ধশতকের সাহায্যে মাত্র ৭৭ বল মোকাবেলা করে ১৫১ রান সংগ্রহ করে তিনি সিরিস্ট সেরার শিরোপাও নিজের করে নেন। মাত্র ১৫ বছর ১২১ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে সিরিজ সেরার বিরল গৌরব অর্জন করেন ভারতীয় এই উদ্বোধনী ব্যাটার।

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে সূর্যবংশী বলেন, ‘আমি নেটে যেসব শর্ট প্র্যাকটিস করি, ম্যাচের পরিস্থিতিতেও সেগুলোই নির্ভাবে খেলার চেষ্টা করি।’ তাঁর ব্যাটিংয়ের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো শুরুতেই প্রতিপক্ষের উপর চড়াও হওয়া। এই আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখা দিয়ে বলেন, দলের জন্যই বলিষ্ঠ সূচনা এনে দেওয়াই ছিল তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি আরও যোগ করেন, ‘টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে আমি যেভাবে খেলতে স্বচ্ছন্দ্য, এ সিরিজেও ঠিক সেই ধাঁচেই নিজেকে মেলে ধরার পরিকল্পনা ছিল। প্রতিটি ম্যাচে দলকে একটি কার্যকর উদ্বোধনী জুটি উপহার দেওয়া এবং একবার সেট হয়ে গেলে ইনিংসটিকে বড় করার দিকেই মনোযোগ ছিল। এটাই ছিল আমার একমাত্র কৌশল।’

জিম্বাবুয়ের মন্থর উইকেটে যেখানে বল থেমে আসছিল, সেখানেও পরিপন্থী বোলারদের বিরুদ্ধে সূর্যবংশীর এই পরিকল্পনা নির্বিঘ্নে কাজ করে। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৮ বলে ফিফটি হাঁকানোর পর তৃতীয় খেলায় খেলেন ৪৯ বলে ৮১ রানের নিয়ন্ত্রিত এক ইনিংস। তিন ম্যাচের সিরিজটি ভারত ৩-০ ব্যাবধানে জয়লাভ করে। এই কীর্তির মাধ্যামে তিনি আফগানিস্তানের স্পিনার মুজিব উর রহমানের দীর্ঘ আট বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধেই একদিনের সিরিজে ১৬ বছর ৩২৫ দিন বয়সে সিরোজ সেরা হয়েছিলেন মুজিব, আর সূর্যবংশী সেই কৃতিত্ব গড়লেন আরও প্রায় এক বছর কম বয়সে।

নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ সেরা ও প্রথম ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়াকে তিনি ‘স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণের দৃষ্টিতে অবশ্য শুধু রানের খাতা নয়; বরং কঠিন উইকেটের আচরণ বুঝে পরিণত ব্যাটিংটাই সূর্যবংশীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। লক্ষ্মণ মন্তব্য করেন, ‘ধীরগতি এবং বল থেমে আসার মতো উইকেটে জিম্বাবুয়ের বোলারদের পরিকল্পনাকে দারুণভাবে মোকাবেলা করেছে বৈভব। এটি একটি অত্যন্ত পরিণত ইনিংস ছিল।’ গত মৌসুমে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের প্রতিনিধিত্ব করার সময়কার অভিজ্ঞতাই তাকে চাপ নিতে ও সেটিকে আলিঙ্গন করতে শিখিয়েছে বলেও মত দেন এই প্রাক্তন তারকা।