চেন্নাইয়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা নতুন এক হোম স্টুডিও এখন সবার নজর কাড়ছে। দক্ষিণ ভারতের 'লেডি সুপারস্টার' হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী নয়নতারা এবং তার স্বামী পরিচালক-প্রযোজক ভিগ্নেশ শিবান এই স্টুডিওটি নির্মাণ করেছেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমেজের সঙ্গে চেন্নাইয়ের স্থানীয় গ্রামীণ পরিবেশের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে এই প্রকল্পে। ৭ হাজার বর্গফুটের এই বাংলোটি ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প, বিভিন্ন শিল্পকর্ম এবং কাঠের তৈরি ভাস্কর্যে সজ্জিত। খোলামেলা পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আলো ও প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চেন্নাইয়ের জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে স্টুডিওটির নকশায়। মেটে রঙের প্যালেট ব্যবহার করে কোথাও বেতের তৈরি আসবাব, কোথাও পুরু কাঠ এবং হাতে বোনা ফাইবার-লিলেনের উপকরণ স্থান পেয়েছে। পুরোনো জিনিসপত্র নতুন আঙ্গিকে ব্যবহারের প্রচেষ্টাও লক্ষণীয়। স্টুডিওর লাউঞ্জে একটি পুরোনো দরজাকে কফি টেবিলে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যার পাশে জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী গালিচা শোভা পাচ্ছে। মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে ধূসর লাইমস্টোন। যোধপুরের একটি পুরোনো রপ্তানিকারকের কাছ থেকে আনা ক্যাবিনেট এবং লাল রঙের অ্যান্টিক চেয়ারগুলো ঘরটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলোর কিছু অংশকে 'কলোনিয়াল স্টাইল' বলা হলেও মূলত অনেক জায়গা বোহো স্টাইলে সাজানো হয়েছে। তবে পুরোনো স্থাপত্যটির মূল উপাদান, বিশেষ করে কাঠের স্তম্ভগুলো যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্তম্ভের সঙ্গে থাকা কাঠের দোলনাটিকে নতুন করে পায়া লাগিয়ে বেঞ্চে রূপান্তর করা হয়েছে। হোম স্টুডিওতে রূপান্তরের আগে এই ভবনটি একটি বাংলো ছিল। পরে খোলামেলা ও আলো-হাওয়াপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে অনেক কিছু সংস্কার করা হয়েছে। অফিসঘরের প্রবেশপথে হাতে খোদাই করা পান্না-সবুজ রঙের রেলিং স্টাইলের দরজাটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এই দরজাটি গোপনীয়তার চেয়ে বাতাস চলাচলের সুবিধার্থে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়নতারা ও ভিগ্নেশের শিল্পপ্রেম এই বাড়ির প্রতিটি কোণে ফুটে উঠেছে। জয়পুর থেকে আনা কিছু চিত্রকর্ম এখানে স্থান পেয়েছে। অফিসের দেয়ালে ঝোলানো বিশালাকার চিত্রকর্মটি একটি শিল্পপ্রদর্শনী থেকে সংগ্রহ করেছিলেন নয়নতারা। ধাতব সিঁড়ির সঙ্গে কাঠের বেষ্টনী ও মেঝের সমন্বয়ে ঘরে আধুনিক মিনিমালিস্টিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চেন্নাইয়ের পুরোনো বাজার থেকে সংগ্রহ করা পিতলের বিভিন্ন জিনিস ঘরের নান্দনিকতা বৃদ্ধি করেছে। অভিনেত্রীর ব্যবহারের জন্য তৈরি ডেস্কটির ওপরের অংশ আস্ত গাছ চিরে তৈরি করা হয়েছে, আর ঘরের দেয়াল সাজানো হয়েছে পটচিত্র দিয়ে।
বাড়ির বাইরের লাল রঙের প্রবেশদ্বারটি অতিক্রম করলেই নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে পৌঁছানো যায়। টালির ছাদের একটি অংশ কেটে দেওয়া হয়েছে যাতে সেখানে থাকা সফেদাগাছটির কোনো ক্ষতি না হয়। এই স্থাপনাটি যেন একই সঙ্গে ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য ও আধুনিক ভাবধারার এক স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করছে।




