ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো তারকা বোলারদের বিপরীতে দারুণ ব্যাটিং করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সফরকারীরা। তবে দিনের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল স্টার্ক ও মেহেদী হাসান মিরাজের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা।

স্টার্কের করা এক ওভারের পঞ্চম বলে পয়েন্ট অঞ্চলে বল ঠেলে রান নিতে গিয়ে পিচের মাঝ বরাবর ছুটে যান মিরাজ। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়কেই পিচের মাঝের সুরক্ষিত এলাকা এড়িয়ে চলতে হয়। মিরাজ দৌড় শুরুর সময় স্টার্কের দিকে তাকিয়ে থাকলেও বলের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পর আর সামনে তাকাতে পারেননি। ফলে স্টার্কের প্রায় মুখোমুখি হয়ে পড়েন তিনি। এই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনার। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মিরাজকে সতর্ক করে বলেন, সুরক্ষিত অংশ দিয়ে দৌড়ানো উচিত হয়নি।

মিরাজ অবশ্য ব্যাখ্যা দেন, বল দেখতে গিয়ে সামনের দিকে নজর ছিল না। কিন্তু ততক্ষণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। স্টার্ক মিরাজের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি তাঁর ফলো-থ্রুর জায়গা এবং মিরাজের উইকেট ছেড়ে দেওয়া উচিত। জবাবে মিরাজও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে স্টার্ক মিরাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি কিন্তু আর বাংলাদেশে নেই এখন, বুঝেছ?’ — এই মন্তব্য নিয়ে আরও বেড়ে যায় উত্তেজনা। আম্পায়ার ধর্মসেনার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ঘটনার পর সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং মিরাজের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি মনে করেন, এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না; বল দেখার চেষ্টার সময় সামনে স্টার্ককে দেখতে না পেয়ে মিরাজ পিচের মাঝ দিয়ে যাওয়াকেই সহজ মনে করেছিলেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকলসন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ ও কঠিন দিনের হতাশার বহিঃপ্রকাশই ছিল এই ঘটনা।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শুরুতে নতুন বলে তিন উইকেট নিয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন স্টার্ক। কিন্তু দিনের শেষভাগে মিরাজ ও হাসান মাহমুদের প্রতিরোধ তাদের পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে আছে। মিরাজ অপরাজিত ৩২ রানে এবং প্রথম দিনে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন। হাতে আরও চার উইকেট থাকায় বড় লিডের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।