কলম্বোর ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট অ্যান্ড অ্যাথলেটিক ক্লাবে সংঘটিত এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় জীবন হারিয়েছেন শ্রীলঙ্কার সুপরিচিত ক্রিকেট প্রশিক্ষক সুমিথ ফার্নান্দো। ৬২ বছর বয়সী এই কোচ জাতীয় দলের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিসের ক্রিকেট জীবনের প্রাথমিক হাতেখড়ি দিয়েছিলেন। শুধু মেন্ডিস নন, স্কুল ক্রিকেটের মাধ্যমে তিনি আরও বহু তরুণকে গড়ে তুলেছেন। ক্লাবের কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন ফার্নান্দো। গত ৮ আগস্ট ক্লাব প্রাঙ্গণে তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু হওয়া একটি বিবাদ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে কলম্বোর ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়। এই আকস্মিক প্রয়াণে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পটভূমি ছিল পানি সরবরাহ নিয়ে। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই এবং শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম শ্রীলঙ্কা মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুশীলনে থাকা তরুণ ক্রিকেটারদের একটি দল খাওয়ার পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ক্লাবের একটি ট্যাপের কাছে যায়। সেখানে কোনো পানি না পেয়ে ক্লাবের কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত থাকা কিউরেটর ফার্নান্দো মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসেন। পুলিশ সূত্র জানায়, এরপর দুই খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ক্লাব কর্মীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে গুরুতরভাবে আহত হন ফার্নান্দো। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক স্কুল ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। শ্রীলঙ্কা মিরর জানিয়েছে, সিনেম্যান গার্ডেনস থানার পুলিশ ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে। ১১ আগস্ট তাঁকে কলম্বো ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রবেশন ও শিশুকল্যাণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, মাঠে প্রশিক্ষণরত একদল ক্রিকেটার পানি খাওয়ার জন্য ট্যাপের দিকে গেলে সেখানে পানির অভাব দেখতে পান। এরপর ক্লাবের এক কর্মীর সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মী ১৭ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে মারার চেষ্টা করেন; জবাবে তরুণ খেলোয়াড়ও পাল্টা আঘাত করেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই ফার্নান্দো হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে আহত হন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি ক্লাব বা পরিবারের জন্য নয়, শ্রীলঙ্কার স্কুল ক্রিকেট ও তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি তরুণদের মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন এবং তাঁর হাতেই গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলা কুশল মেন্ডিসের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার।