মালয়েশিয়ার লিকাস স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত হলো এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ। সেখানে অভিষেক ঘটল বাংলাদেশের নারী ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারসের। তবে কলকাতার ক্লাব ইস্ট বেঙ্গলের বিপক্ষে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের দলটি।

বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ফুটবলের মূল লক্ষ্য—গোল করা—সেটি করতে ব্যর্থ হয় রাজশাহী। পুরো ম্যাচে দলটি ১০টি শট নেয়, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু কলকাতার গোলরক্ষককে পরাস্ত করার মতো ধার কোনো প্রচেষ্টাতেই ছিল না। অপরদিকে, ইস্ট বেঙ্গল ১৫টি শট নেয়, ছয়টি সরাসরি লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং চারটি গোল আদায় করে নেয়। ম্যাচের শুরু থেকেই কলকাতার দলটি আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে। রাজশাহীর রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। বাংলাদেশের দলটি বল দখলের লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ তৈরি ও তা রূপান্তরের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে পিছিয়ে থাকে।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের গতিপথ প্রায় নির্ধারণ করে দেয় কলকাতার দলটি। নবম মিনিটে ঘানাইয়ান খেলোয়াড় অলিভিয়া আনোকিয়ে ইস্ট বেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। ২৬ মিনিটে আস্তাম ওরাওঁ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩৮ মিনিটে অলিভিয়া নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তহুরা ও স্বপ্নাদের দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় রাজশাহী। আক্রমণে ধার বাড়ানোর প্রচেষ্টা থাকলেও সফলতা আসেনি। বরং ইস্ট বেঙ্গল ধারাবাহিকভাবে রক্ষণভাগে চাপ বজায় রাখে। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ গোলটি করে কলকাতার দল; গোলদাতা সৌম্যা গুগুলোথ।

এই টুর্নামেন্টের প্রথম দুই আসরে বাংলাদেশ থেকে কোনো ক্লাব অংশ নেয়নি। তৃতীয় আসরে প্রথমবারের মতো খেলছে রাজশাহী, যা দেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কোচ গোলাম রব্বানী ও অধিনায়ক শিউলি আজিম টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছিলেন, ইস্ট বেঙ্গলের বিপক্ষেই আসল পরীক্ষা দিতে হবে। মাঠের লড়াইয়ে সেটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‘এ’ গ্রুপে রাজশাহীর অন্য প্রতিপক্ষ হলো গুয়ামের রোভার্স এফসি ও স্বাগতিক মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসি। ২০ আগস্ট একই মাঠে সাবাহ এফসির বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ খেলবে দলটি। বড় ব্যবধানে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন গোলাম রব্বানীর শিষ্যদের সামনে।