গত ১৮ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তির আগে রেফারির বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করেছে ফিফা। স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ সেই ম্যাচ পরিচালনা করেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই অবসরে যান। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন বিশ্বকাপ জেতে।

ফুটেজটি টানেল থেকে শুরু হয়, যেখানে দেখা যায় স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রিসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ধরছেন মেসি। এরপর ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। দুই অধিনায়ক রদ্রি ও মেসি টসের সময় ডেভিড গেটার গান ‘টাইটানিয়াম’-এর আওয়াজে তাঁদের কথা পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায়।

ফুটেজে একটি ফাউলের পর আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে সতর্ক করে ভিনচিচ বলেন, ‘তোমার জন্য এটিই শেষ (সতর্কতা)।’ আরেকটি ঘটনায় ফাউলের শিকার হয়ে মেসি প্রতিবাদ জানাতে গেলে ভিনচিচ তাঁকে বলেন, ‘লিওনেল, আমি দেখতে পাচ্ছি।’ মেসি তখন কথা না বাড়িয়ে সরে যান।

প্রায় পাঁচ মিনিটের এই ভিডিওতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পারেদেসকে নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামার মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ভিনচিচকে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘মেসি, পারেদেসকে নিয়ন্ত্রণ করো। আমি চাই না... ও কার্ড দেখেছে। দয়া করে ওকে সামলাও।’ মেসির পরামর্শে পারেদেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে রক্ষা পেলেও ম্যাচ শেষে মেজাজ হারিয়ে স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে আঘাত করেন এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন। গত ২৯ জুলাই ফিফা জানায়, মারধরের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পারেদেসের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে রেফ ক্যামের ফুটেজে হাতাহাতির দৃশ্য দেখানো হয়নি।

ফুটেজে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোল খুব কাছ থেকে দেখা যায়। পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিনচিচকে ‘খুব ভালো কাজ করেছ’ বলতেও শোনা যায়।

২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপে সফল প্রয়োগের পর ছেলেদের বিশ্বকাপে রেফারির বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফিফা এই প্রযুক্তিকে রেফারিদের মাথায় নিরাপদে পরিধানযোগ্য ‘হালকা ভিডিও ডিভাইস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ম্যাচের সময় তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে দৃশ্য ধারণ করে এবং ‘হাই-ডেফিনেশন ভিডিও ও অডিও রিয়েল-টাইমে’ রেকর্ড ও সম্প্রচার করতে পারে।