রাজস্ব আদায়ের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন কৌশল নির্ধারণে আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বসছে জাতীয় রাজস্ব সম্মেলন। রাজস্ব আদায়ে প্রতিবছর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বড় ঘাটতি থেকে যায়, যা পূরণে বিকল্প পথ খুঁজছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্মেলনে সংস্থাটির তিনটি মূল বিভাগ—আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও শুল্ক—তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে আয়কর বিভাগ ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা গত অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে উৎসে কর ও অগ্রিম কর আদায়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উৎসে কর থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা এবং অগ্রিম কর থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। বছরের পর বছর ঝুলে থাকা আয়কর সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে; ২০২৭ সালের জুন নাগাদ অবিতর্কিত ৮০ শতাংশ বকেয়া কর আদায়ের কথা বলা হয়েছে।

অপরদিকে, ভ্যাট বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এই খাত থেকে মোট ৯৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের পরিকল্পনা নিয়ে আসছে ভ্যাট বিভাগ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ধরে ২০ হাজার কোটি টাকা, বিড়ি-সিগারেট খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পূর্ণ বাস্তবায়নে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং ভ্যাট ফাঁকি রোধ করে ৩৮ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ভ্যাট নিবন্ধন সম্প্রসারণেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআর ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা গত অর্থবছরের ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রাকে অর্থনীতিবিদদের অনেকেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এনবিআর বলছে, লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় পথনকশা তারা তৈরি করেছে। বিশ্বের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ; বর্তমানে এই অনুপাত ৬-৭ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এনবিআর ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়েছে, যা সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

সম্মেলনের শুরুতেই এনবিআরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেবেন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এরপর মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুল্ক-কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত থাকবেন। রাজস্ব সম্মেলন প্রাঙ্গণে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের আলাদা স্টল থাকবে। নাম প্রকাশ না করে এনবিআরের এক সদস্য জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে তারা মনে করছেন এবং বড় লক্ষ্য অর্জনে এনবিআরের সক্ষমতার বিষয়েও সরকারপ্রধানকে অবহিত করা হবে।