মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া নামের এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মাগুরুলি সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত তারা মিয়ার বয়স ২০ বছর বলে জানা গেছে। তিনি একই উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে।
এ ঘটনার আগে চলতি বছরের ১২ জুন একই উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মুজিব আলী নামের আরেক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হন। ওই ঘটনায় লাশ ফেরত দেয়ার পর বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তারা প্রায় ৫০০ গজ পর্যন্ত ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়লে বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলি ক্যাম্পের টহল দল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তারা মিয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা দ্রুত বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।
মাগুরুলি সীমান্ত এলাকাটি বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধীনস্ত। শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত এই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ রোববার সকালে গণমাধ্যমকে জানান, নিহত তারা মিয়া চোরাচালান কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, তারা মিয়ার মরদেহ বর্তমানে বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ বাংলাদেশের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, চোরাচালানের অভিযোগে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় পূর্বে একটি মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজিবির এই কর্মকর্তা। সীমান্তে এমন ঘটনা নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




