কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের ফলে কর্মবাজারে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, আগামী দিনে উচ্চ বেতনের চাকরি ওয়াল স্ট্রিটের অফিস কিংবা সিলিকন ভ্যালির চ্যাট রুমে নয়, বরং হাতে কলমে কাজে মিলবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি জায়ান্টরা যখন বিরাট আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে দৌড়াচ্ছে—যার জন্য এই দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে—তখন পৃথিবী মানব ইতিহাসের 'সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণের' দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। হুয়াং-এর মতে, এই নির্মাণযজ্ঞ বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে।

ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্কের সাথে আলোচনাকালে হুয়াং বলেন, 'এটা চমৎকার যে কাজগুলো হাতের কারিগরি দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত। আমাদের প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, নির্মাণ শ্রমিক এবং ইস্পাত শ্রমিকের প্রয়োজন হবে।' তিনি চিপ, কম্পিউটার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারখানা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় এই দক্ষ হাতের কাজের অভাবের কথাও উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, এই কাজগুলোর অনেকগুলোর বেতন বছরে এক লাখ ডলারের বেশি, যদিও তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। ম্যাককিনসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই অতিরিক্ত ১ লাখ ৩০ হাজার প্রশিক্ষিত ইলেকট্রিশিয়ান, ২ লাখ ৪০ হাজার নির্মাণ শ্রমিক এবং ১ লাখ ৫০ হাজার নির্মাণ তত্ত্বাবধায়কের প্রয়োজন হবে। হুয়াং বলেন, 'সবাই যাতে ভালো জীবনযাপন করতে পারে, তার জন্য কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি থাকার দরকার নেই।'

হুয়াংয়ের এই আশাবাদি ভবিষ্যদ্বাণীর বিপরীতে, ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী জিম ফারলি সতর্ক করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঐতিহ্যবাহী হোয়াইট কলার চাকরির পথ সংকুচিত করছে। ফারলি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা এখনও চার বছরের কলেজ ডিগ্রির দিকে ঝুঁকে আছে, কিন্তু প্রযুক্তি কোম্পানিতে নবীন কর্মী নিয়োগ ২০১৯ সালের পর থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, 'আমরা কি সত্যিই আমাদের সব সন্তানকে সেদিকে পাঠাতে চাই? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক হোয়াইট কলার কর্মীকে প্রতিস্থাপন করবে।' একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন যে উৎপাদন ও অবকাঠামো পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নীল কলার কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ফারলি জানান, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই ৬ লাখ কারখানা শ্রমিক ও ৫ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের অভাব ছিল।

একই উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক ইলেকট্রিক্যাল শিল্পকে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের মতে, ইলেকট্রিশিয়ান চাকরির চাহিদা আগামী দশ বছরে ৯ শতাংশ বাড়বে। ফিঙ্ক সিইআরএউইক সম্মেলনে বলেন, 'আমি ট্রাম্প দলের সদস্যদেরও বলেছি যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিশিয়ানের সংখ্যা আমাদের শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট লোক নেই।' এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, উচ্চ বেতনের সুযোগ সৃষ্টি হলেও দক্ষ জনবলের অভাবই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।