সৌরজগতের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র সূর্যকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘকালের এক বিস্ময়ের অবসান ঘটল সম্প্রতি। প্রায় ৪৬০ কোটি বছর পূর্বে অভিন্ন ধূলিকণা ও গ্যাস থেকে সূর্য এবং প্রাচীন উল্কাপিণ্ডগুলোর উৎপত্তি হওয়া সত্ত্বেও এতদিন তাদের মধ্যে মৌলিক গঠনে, বিশেষ করে রুপার পরিমাণে, উল্লেখযোগ্য অসংগতি পরিলক্ষিত হচ্ছিল। প্রাচীন উল্কাপাতে যে পরিমাণ রুপার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল, সূর্যের বর্ণালি বিশ্লেষণে তার তুলনায় অনেক কম রুপার প্রমাণ মিলছিল, যা ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে একটি ধহাধার বিষয়।

'অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস' জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এই 'হারিয়ে যাওয়া রুপা'র রহস্যের সুরাহা মিলেছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাস্তবে সূর্যের অভ্যন্তরে রুপার মজুদ পূর্বে করা সমস্ত পরিমাপের চেয়ে অনেক বেশি। সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি ভর হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামে গঠিত বলে সেখানে রুপার পরিমাণ স্বভাবতই অতি নগণ্য। কিন্তু নতুন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, আগের গবেষণাগুলোর প্রাপ্ত ফলের থেকে অন্তত ৫৫ শতাংশ বেশি রুপা বিরাজমান রয়েছে সূর্য নামক এই নক্ষত্রপুঞ্জটিতে।

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সেমা কালিসকান ব্যাখ্যা করেন, তাঁদের নবনির্মিত মডেলের দৌলতে সূর্যের রৌপ্য প্রাচুর্য নির্ণয়ে ব্যবহৃত বর্ণালি রেখাগুলোর আরও নির্ভুল ব্যাখ্যা প্রদান সম্ভব হয়েছে। সূর্যের বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আলো যেভাবে প্রতিফলিত ও শোষিত হয়, তার ভিত্তিতে সেই আলোতে দৃশ্যকোন বিশেষ রেখা বা বর্ণালি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সুপারকম্পিউটারের সাহায্যে প্রযুক্ত ত্রিমাত্রিক মডেলে রুপার পরমাণুর আচরণ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা প্রদর্শন করেন যে, পূর্বেকার পরিমাপে একটি বড় ধরনের ভুল ছিল।

এই ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি সংযোজনের ফলে সূর্যের রুপার পরিমাণ এখন পৃথিবীতে প্রাপ্ত সমসাময়িক উল্কাপিণ্ডগুলোর তথ্যের সাথে পূর্ণমাত্রায় একাত্ম হয়ে যায়। কালিসকান আরও যোগ করেন, সূর্যের গঠন সংক্রান্ত এই নূতন জ্ঞান অন্য নক্ষত্র, গ্রহ এবং মহাজাগতিক উপকরণ অনুধাবনের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি প্রধান রেফারেন্স পয়েন্ট হলো সূর্য। বিভিন্ন ধরন ও বয়সের নক্ষত্রের আলো নিরীক্ষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বে রুপার উৎপত্তি স্থল এবং সময়ের আবর্তনে সেটি কীভাবে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথে বিস্তার লাভ করেছে, তা উপলব্ধি করা যাবে। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট।