চলতি অর্থবছরের সূচনাতেই দেশে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা শিথিল হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ মঙ্গলবার জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে টানা তিন মাস ৯ শতাংশের উপরে থাকার পর এবার তা নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে। বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, তার আগের মাস মে'তে তা বেড়ে হয়েছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এপ্রিল মাসেও মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির উপর পড়েছে, যার ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর ক্রয়ক্ষমতার চাপ তৈরি হয়েছে। বিবিএসের হিসাব বলছে, জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে (জুলাই–জুন) দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। আয় অপরিবর্তিত থাকলে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের সংসার চালাতে খরচ বেড়ে যায়, ফলে তাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে; পাশাপাশি চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
গত জুলাই মাসে জাতীয় গড় মজুরির হার বেড়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। এর অর্থ হলো, বাজারে পণ্য কেনার সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে প্রকৃত আয় কমে যায়, ফলে অনেককে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় অথবা খাবার, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে সঞ্চয় করতে বাধ্য হতে হয়।




