যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচলিত অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। কর্মচারীরা এখন তাদের কর-পূর্ব আয়ের একটি অংশ ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারবেন, এবং নিয়োগকর্তারাও সমতুল্য হারে অর্থ যোগ করতে পারবেন — এমন এক কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে যা অনেকটা ৪০১(কে) পরিকল্পনার মতো। তবে এই উদ্যোগের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কারণ সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে খুব কম সংখ্যক কোম্পানিই এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

নতুন এই নীতির অধীনে, ট্রাম্প অ্যাকাউন্টধারীরা তাদের বেতনের একটি অংশ সরাসরি কর-পূর্ব ভিত্তিতে জমা করতে পারবেন, যা তাদের করযোগ্য আয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেবে। এর পাশাপাশি, নিয়োগকর্তারা যদি চান তাহলে কর্মচারীর জমার সমান পরিমাণ অর্থ অ্যাকাউন্টে যুক্ত করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে এর গ্রহণযোগ্যতা এখনো পরীক্ষিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কর-পূর্ব সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার সমতুল্য অনুদান সাধারণত সঞ্চয় পরিকল্পনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। কিন্তু ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জটিলতা একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ নিয়োগকর্তা ইতিমধ্যেই কর্মীদের জন্য প্রথাগত সঞ্চয় বা অবসর পরিকল্পনা চালু রেখেছেন, ফলে নতুন এই ব্যবস্থা যোগ করার ক্ষেত্রে তারা উৎসাহ দেখাননি।

তবে কর্মসূচির প্রবর্তকরা আশা করছেন, কর-পূর্ব বেতন জমা এবং নিয়োগকর্তার ম্যাচিং সুবিধা কর্মীদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াবে। কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এটি কম খরচে কর্মীদের জন্য একটি অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবুও, বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, এবং আগামী মাসগুলোতে এই কর্মসূচির বাস্তবায়নের হার কতটা হবে তা সময়ই বলে দেবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যদি নিয়োগকর্তারা ব্যাপকভাবে অংশ না নেন, তাহলে এই কর্মসূচি কর্মীদের কাছে খুব বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে না। কারণ কর-পূর্ব জমার সুবিধা থাকলেও, নিয়োগকর্তার সমতুল্য অনুদান ছাড়া এটি সাধারণ সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি লাভজনক নয়। ফলে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কোম্পানিগুলোকে এই নতুন ব্যবস্থায় আস্থা আনা, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই একটি কঠিন কাজ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।