৫৫ বছর বয়সী রনেন হারারি স্পিন মাস্টার নামের দুই বিলিয়ন ডলারের খেলনা সাম্রাজ্যের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সম্প্রতি তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান বয়সে যদি তাকে নতুন করে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হতো, তাহলে সম্ভবত তিনি সফল হতে পারতেন না। বিজনেস ইনসাইডারের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যবসা শুরুর জন্য বিশের দশকই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার মতে, তরুণ বয়সে মানুষের শক্তি, উদ্যম, সংকল্প ও কিছু অর্জনের আকাঙ্ক্ষা সর্বোচ্চ স্তরে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গুণগুলোর মাত্রা কমে আসে। তাই তিনি তরুণদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

হারারি মাত্র ২৩ বছর বয়সে কোম্পানির যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে কানাডার টরন্টোতে তিনি শৈশবের বন্ধু অ্যান্টন রাবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী বেন ভারাদি—এই দুই সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হয়ে স্পিন মাস্টার প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজ শেষ করেই তারা বাজারে নিয়ে আসেন ‘আর্থ বাডি’ নামের এক অভিনব ঘাস গজানোর খেলনা। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেলে পণ্যটি, এবং এরপর একের পর এক নতুন পণ্য বাজারে ছাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। মিলিয়ন শিশুর শৈশবকে রঙিন করেছে স্পিন মাস্টারের খেলনা। মিলেনিয়ালদের কাছে পরিচিত এচ-এ-স্কেচ ও আইসিই মেকার; জেন-জেডের কাছে জনপ্রিয় মাইটি বেনজ ও কাইনেটিক স্যান্ড—সবই এই ব্র্যান্ডের সৃষ্টি। বর্তমানে জেন আলফার কাছে সবচেয়ে পরিচিত নাম প-ট্রোল: ১৬০টিরও বেশি দেশে এবং ৩০টি ভাষায় প্রচারিত এই টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি এখন স্পিন মাস্টারের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই সপ্তাহে এর তৃতীয় ফিচার ফিল্ম প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে।

হারারির মতে, বিশের দশকে শুরু করলে শুধু শক্তির সুবিধাই মেলে না, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও লাভবান হওয়া যায়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২৫ বছর বয়সে কেউ আপনাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে না; সবাই আপনার পক্ষে থাকে। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সে পরিস্থিতি বদলে যায়—তখন অনেকে আপনাকে প্রতিযোগী হিসেবে গণ্য করতে পারে। এ কারণেই তিনি মনে করেন, যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং তরুণ বয়সের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসাকে বড় করে তোলা সম্ভব।

ইন্টারনেট যুগের পর থেকে জাকারবার্গ, স্টিভ জবস ও আলেকজান্ডার ওয়াংয়ের মতো তরুণরা ব্যবসায়িক জগতে নিজেদের ছাপ রেখেছেন। মাইক্রোসফট ও ডেল টেকনোলজিস কলেজের ছাত্রাবাস থেকে জন্ম নিয়েছে; আর স্কেল এআই ও কার্সারের মতো বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ জেন-জেড তরুণরা গড়ে তুলেছেন। তবুও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবসা শুরু করা উদ্যোক্তাদের গড় বয়স ৪২ বছর। এমনকি শীর্ষ ০.১ শতাংশ সফল স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতারা সাধারণত ৪৫ বছর বয়সে যাত্রা শুরু করেন। সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিখাত কিছুটা তরুণমুখী হলেও, বিশের দশকের তরুণরা এখনো উদ্যোক্তা জগতের প্রকৃত মুখ হয়ে ওঠেননি—যদিও নেতারা একে সেরা সময় হিসেবে বিবেচনা করেন।

এই দলে রয়েছেন এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জেনসেন হুয়াং। মাত্র ৩০ বছর বয়সে ৫.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চিপ সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হুয়াং বলেছেন, কোম্পানি শুরুর জন্য এখনকার সময়ই “সবচেয়ে বড় সুযোগ”। তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে তিনি বিশেষভাবে ঈর্ষান্বিত। অন্যদিকে, ১০০ কোটি ডলারের আপওয়ার্কের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টেফান কাসরিয়েল মনে করেন, তরুণদের যতটা সম্ভব উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা জরুরি। তার যুক্তি, ৩৫ বছর বয়সে মানুষের কাঁধে প্রায়ই বন্ধক ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে; ফলে তারা কম ঝুঁকি নিতে পারেন। কলেজের পরপরই ব্যবসা শুরু করা তাই “সবচেয়ে উপযুক্ত সময়” বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, নিজের পছন্দের কর্মজীবন গড়ে তোলার এবং প্রচলিত চাকরির সীমাবদ্ধতা এড়ানোর জন্য এখনই সময়। কেউ কোম্পানি খুলুক বা ফ্রিল্যান্সার হোক—বিশের দশকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া সবচেয়ে সহজ। মূল প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ফর্চুন ডটকমে।