টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করলেও বহু এলাকা এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানিবন্দী অবস্থায় শুকনা খাবার ও সুপেয় পানির অভাবে দিন কাটছে লাখ লাখ মানুষের।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় প্রায় চার লাখ মানুষ এখনও বন্যায় আটকা রয়েছেন। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। লোহাগাড়া উপজেলার সদর, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের কিছু অংশে এখনও পানি জমে আছে।
অন্যদিকে, বাঁশখালী উপজেলার অন্তত আটটি উপকূলীয় ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া অনেকেই শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের মুখে পড়েছেন। গত শুক্রবার সকালে বৃষ্টি কিছুটা কমায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা গেলেও, রাতে আবার বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে পানি বেড়েছে।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও এখনো হাঁটুসমান পানি জমে আছে বিভিন্ন এলাকায়। সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় তিন কিলোমিটারজুড়ে সড়ক ও বাড়ির উঠোন পানিতে তলিয়ে আছে। কৃষিজমি ও পুকুরও প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দী। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, তিন দিন ধরে বন্যায় আটকে থাকলেও অনেকে এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে সাড়ে চার মেট্রিক টন করে চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং যারা এখনও সহায়তা পাননি, তাদের কাছেও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও ৪৩ হাজারের বেশি পরিবার এখনও পানি বন্দী। চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, বেশির ভাগ এলাকা থেকে পানি সরে গেছে, তবে নিচু অংশে পানি থাকায় তা দ্রুত নেমে যাবে যদি বৃষ্টি না হয়।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চার দিন ধরে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাত হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। চেঙ্গী নদীর পানি কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি সরে গেলেও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। বন্যায় কৃষিজমি, সবজিখেত ও পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষকে খাবার ও আড়াই হাজার পরিবারকে ত্রাণ প্রদান করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানিয়েছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




