কর্মক্ষেত্রের বর্তমান পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে দলগত কাজ ও সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত প্রকৌশলী ও Fortune 500 কোম্পানির বোর্ড পরিচালক রডনি অ্যাডকিন্স। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন আর ঐচ্ছিক নয়; এটি একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও মানুষের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সংযোগ রক্ষার দায়িত্বও থেকে যায়।

অ্যাডকিন্স তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, AI তথ্য প্রক্রিয়াকরণে দক্ষ হলেও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, কৌতূহল, বিচারবুদ্ধি ও সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থান এখনও অনন্য। তাই সাফল্য লাভ করতে হবে AI-র বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও মানুষের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মাধ্যমে। তিনি বলেন, “যারা কৌতূহলের সাথে নেতৃত্ব দেবে, বিচারবুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের কাজকে সম্প্রসারিত করবে, তারাই বিজয়ী হবে।”

সংস্থাগুলোর লক্ষ্য কখনো একক প্রচেষ্টায় অর্জিত হয় না—এমনটি মনে করেন অ্যাডকিন্স। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্যারিয়ারের যেকোনো স্তরেই হোক না কেন, দলগত কাজ ও সহযোগিতা অপরিহার্য। এমনকি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উদাহারণ দেন, সহকর্মীদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সমাবেশ—যেখানে প্রথমে আগ্রহ না থাকলেও—পরে তা বিশ্বাস ও আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এই আস্থাই দলকে দ্রুত ও ভালোভাবে কাজ সম্পাদনে সাহায্য করে।

প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে হতাশা মোকাবিলার প্রসঙ্গে অ্যাডকিন্স বলেন, প্রত্যাশিত পদোন্নতি বা প্রকল্পের নেতৃত্ব অন্য কাউকে দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা আসে। তবে দ্রুত সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠা এবং ওই ব্যক্তির সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থই মুখ্য হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, আপনার বস বা লাইন ম্যানেজারের সাথে যদি ব্যক্তিগতভাবে মানিয়ে না-ও নেন, তবুও সহযোগিতার মনোভাব ধরে রাখতে হবে, কারণ এতে প্রতিষ্ঠান ও নিজে উভয়েরই মঙ্গল।

পরিশেষে অ্যাডকিন্স স্মরণ করিয়ে দেন, “যদি দ্রুত যেতে চাও, একা যাও; কিন্তু যদি দূরে যেতে চাও, তাহলে একসঙ্গে যাও।” তিনি মনে করেন, দলগত কাজের অর্থ হলো ব্যক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালো সমাধান ও ফলাফল তৈরি করা। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা নির্বাহী থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী—সবার জন্যই সহযোগিতা অপরিহার্য, কারণ কেউই একা সফল হতে পারে না। এই নতুন যুগে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন AI-র শক্তি ও মানুষের সম্পর্কের দক্ষতার সমন্বয়, যা কেবল দলগত কাজের মাধ্যমেই সম্ভব।