২০২১ সালে আমেরিকান জার্নাল অব অবস্টেট্রিক অ্যান্ড গাইনোকলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিশ্বের প্রায় ৩৫টি অনুরূপ ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, যথাযথ নিবিড় পরিচর্যা ও জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা থাকলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেত্রেই ব্রেন ডেথ হওয়া মায়ের গর্ভ থেকে জীবিত শিশু জন্ম দেওয়া সম্ভব।

এই ধরণের বিরল ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২০০৫ সালে। ২৬ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা সুসান টরেস স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মস্তিষ্কের মৃত্যুর শিকার হন। তাঁর গর্ভকাল ছিল ১৭ সপ্তাহ। গর্ভের সন্তান জীবিত থাকায় চিকিৎসকেরা কৃত্রিম জীবনধারণ ব্যবস্থায় তাঁকে বাঁচিয়ে রাখেন। নির্ধারিত সময় পর নিরাপদে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। শিশুর জন্মের পরই মায়ের লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে চেক প্রজাতন্ত্রে। সেখানে ব্রেন ডেথ নিশ্চিত হওয়ার পর গর্ভবতী মাকে টানা ১১৭ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এই সময়কালটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘতম সফল সোমাটিক সাপোর্টের নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিশুর জন্মের আগ পর্যন্ত মায়ের শরীরের কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছিল।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ব্রেন ডেথ মানে মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ ও অপরিবর্তনীয় কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়া, যাকে আইনগতভাবে মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে উন্নত ভেন্টিলেটর, ওষুধ ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে মায়ের দেহকে সাময়িকভাবে ভ্রূণের জন্য একটি ইনকিউবেটর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মায়ের মৃত্যু হলেও গর্ভের শিশু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও বিরল প্রক্রিয়া। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নৈতিকতা, পরিবারের সম্মতি ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ব্রেন ডেথ থেকে ফিরে আসার কোনো বৈজ্ঞানিক উদাহরণ না থাকলেও, একটি নিভে যাওয়া প্রাণের শরীর থেকে নতুন প্রাণের শুরু সম্ভব—এটাই এই চিকিৎসা পদ্ধতির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক।