পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে নির্মিত একটি সেতুতে উঠতে এখন বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এর সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) এখনো তৈরি হয়নি, ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হওয়ায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ঠিকাদার সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু করেন। পরে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের ৩০ জুন। তবে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনও অসমাপ্ত।
গুমানী নদী থেকে একটি খাল চলনবিল পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দুই পাশের অন্তত ১০টি গ্রামকে পৃথক করেছে। এই খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয়েছে দুই পাশের গ্রামগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য। সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত দহপাড়া, লক্ষীকুন্ডা, বঙাবাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং সেখানে একটি মসজিদ রয়েছে। অপরদিকে পশ্চিম পাশে দহপাড়া গ্রামের বাকি অংশ, দেওভোগসহ আরও কয়েকটি গ্রাম, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।
কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে সেতুর দুই পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। এই সাঁকো দিয়েই এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াত করছেন তারা। সেতুর পূর্বপাশের দহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ফজলুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু দুই বছরেও তা শেষ হয়নি। আগে শক্ত বাঁশের সাঁকো ছিল, এখন সেই ব্যবস্থাও নেই। বাসিন্দারা নিজেরাই সাঁকো তৈরি করেছেন, যার একদিক অনেক উঁচু আর অন্যদিক নিচু — ফলে উঠতে গিয়ে অনেকে পড়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলার পিআইও মো. মানিকুজ্জামান বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি শিগগিরই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন। সেতুর ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ (সাগর) দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে বালুসংকটের কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল, এ কারণেই দেরি হয়েছে। তিনি জানান, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন জানান, ঠিকাদারকে সব কাজ দ্রুত শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার চূড়ান্ত বিল স্থগিত রাখা হবে।




