জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, তথ্যচিত্রটিতে ঘটনাপ্রবাহের উপস্থাপনা নিয়ে ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলে অনুষ্ঠানস্থলে ‘কতিপয় ব্যক্তি’ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো বিষয়ে অভিযোগ জানানোর অধিকার সকল নাগরিকের থাকলেও তা পরিশীলিত ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া উচিত। কিন্তু সেটি না করে রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনীতিক, গণমাধ্যম ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে গোলযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচাল এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিবাদ জানানোর বিকল্প পদ্ধতি থাকলেও সেটি না করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যাতে আমন্ত্রিত শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধারা মানসিকভাবে আহত হন। তাঁদের বক্তব্যেও বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়। তারা আরও জানায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য সম্মানহানিকর এবং গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়কর।

মন্ত্রণালয় সকলকে বিভ্রান্তিমূলক ও সম্মানহানিকর অপতথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ ধরনের অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় আবারও ফ্যাসিবাদের কবলে নিয়ে যাওয়ার শামিল। পুরো জাতিকে এ ধরনের হঠকারী, রাষ্ট্রবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায়’ তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়। সেখানে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে হট্টগোল শুরু হয় এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এক পর্যায়ে কূটনীতিকদেরও বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এখন বলছে, তথ্যচিত্রটির বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন শেষে দ্রুততম সময়ে তা প্রকাশ করা হবে। তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তথ্যভিত্তিকভাবে সংরক্ষণে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছে।