ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে চারদিক জলমগ্ন থাকায় সাপ আশ্রয়হীন হয়ে প্রায়ই লোকালয়ে প্রবেশ করে, ফলে সর্পদংশনের ঘটনা বেড়ে যায়। এমন আকস্মিক দুর্ঘটনা থেকে রোগীকে বাঁচাতে দ্রুত এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োগ জানা অপরিহার্য। ভুল পদক্ষেপ পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে, এজন্য চিকিৎসকদের নির্দেশনাই একমাত্র ভরসা।
এ বিষয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের নিউরোলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল স্টাফ ডা. হিমেল বিশ্বাস কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথম শর্তই হলো, আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব প্রশান্ত রাখা। আতঙ্কিত হলে হৃদগতি বেড়ে যায় এবং এর ফলে দেহে বিষ ছড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে।
কামড় খাওয়া অংশটি, যেমন হাত বা পা, একেবারে অনড় করে রাখতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তা কোনোভাবেই নড়াচাড়া না করে। সেই সঙ্গে ক্ষতস্থানটি হৃৎপিণ্ডের তুলনায় যতটা সম্ভব নিম্ন অবস্থানে রাখতে হবে; কোনো অবস্থাতেই এটি উপরের দিকে তোলা যাবে না। এটি বিষের দ্রুত সংবহনকে ধীর করে।
অনেক সময় গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস থেকে সাপে কামড়ানো স্থান কাটা, রক্ত চোষা বা ওষধি প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়। ডা. হিমেল বিশ্বাস স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ধরনের সব প্রচেষ্টাই পুরোপুরি পরিহার করতে হবে। ক্ষতস্থানে কোনো কাটাছেঁড়া বা শক্ত করে বাঁধনের প্রয়াস জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বরং কোনো প্রকার সময় অপচয় না করেই রোগীকে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে, যেখানে অ্যান্টি-ভেনম সরবরাহ আছে।
অ্যান্টিভেনাম প্রয়োগে বিলম্ব কখনই কাম্য নয়। যথাসময়ে সঠিক মাত্রার অ্যান্টিভেনাম দিতে পারলেই জীবনরক্ষা সম্ভব হয়। এছাড়া, বহু প্রজাতির সাপের বিষ মূলত স্নায়ুব্যবস্থায় আঘাত করে এবং ধীরে ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাস ক্রিয়ায় অবসাদ আনে। তাই চিকিৎসক প্রদত্ত আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাসে কোনো রকম ব্যাঘাত ঘটছে কিনা, তার প্রতি সতর্ক নজর রাখতে হবে। কারণ, শ্বাসরুদ্ধ হতে শুরু করলে সেটি তৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য একটি গুরুতর সংকেত।




