কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া এলাকায় খিরাই নদের উপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ ভেঙে একটি ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় বাল্কহেডে থাকা চালক, সুকানি, সহকারী ও ১৭ জন শ্রমিক মিলিয়ে মোট ২০ জন অতি কষ্টে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ও সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পায়।

রোববার সকালে ঘটনার স্মৃতিচারণ করে শ্রমিক কাশেম মিয়া জানান, প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি তার মুঠোফোন, নগদ টাকা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও ঘুমানোর চাঁদরসহ সব জিনিসপত্র হারিয়েছেন। অর্থের অভাবে তাকে সারা রাত ও সকাল পর্যন্ত উপোষ থাকতে হয়েছে। বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী জানান, প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ৪০ হাজার ইট ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে বোঝাই করে শনিবার ভোরে রওনা হন। খিরাই নদী পথে খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বিকট শব্দে সেতু ভেঙে বাল্কহেডের ওপর পড়ে। তার ২৫ লাখ টাকা দামের বাল্কহেডটির বড় ক্ষতি হয়েছে এবং তার সাথে থাকা সবার অর্থ ও ফোন নিয়ে যেতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মজনু মিয়া দাবি করেন, দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টির জন্যে সেতুর পাটাতনগুলোতে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা কার্যালয় সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার সময় প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় মেরামতকারী শ্রমিকেরা ভুল বুঝে বেইলি সেতুর সংযোগের নাট খুলে ফেলে। এর ফলেই পুরো সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই মেরামতের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকেরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

সেতুটি ভেঙে পড়ার কারণে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ফলে দাউদকান্দি উপজেলার পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং তাকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।