সিলেটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম চরমভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক রাতের আড্ডার আসরে বন্ধুদের সাথে নিয়ে চায়ের দোকানে বসেই খাতা দেখছিলেন। সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা তাকে সেখান থেকেই হাতেনাতে আটক করেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের পাশের একটি চায়ের দোকানে।
অভিযুক্ত প্রভাষকের নাম ইকবাল হোসেন (সোহান)। তিনি নগরীর মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজে কর্মরত এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইকবাল হোসেন তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ফজলুল হক নামে এক দোকানির চায়ের দোকানে বসে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। এ সময় তাঁদের সাথে উপস্থিত ছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আইরিন লিনজা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনাস্থলে এক বস্তা ভর্তি উত্তরপত্র ছিল এবং ইকবালের বন্ধুরাও তাকে খাতা কাটায় সহায়তা করছিলেন। একদিন আগে শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে তাঁরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিক্ষা বোর্ডের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরীক্ষককে খাতা দেখার কাজে লিপ্ত অবস্থাতেই ধরে ফেলেন। এসময় তাঁর হেফাজত থেকে প্রায় চারশতটি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে আমরা রাতে গিয়েই চায়ের দোকানে খাতা দেখে অবস্থায়ই ওই পরীক্ষককে আটক করি। সেখান থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করা হয়েছে। এখন তিনি আমাদের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চায়ের দোকানর মালিক ফজলুল হক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ও তাঁর সহপাঠীরা নিয়মিত তার দোকানে চা খেতে ও আড্ডা দিতে আসতেন। ঘটনার রাতে তারা ভেতরে বসে পেপার দেখছিল, এমন সময় শিক্ষা বোর্ডের লোকেরা এসে তাদের সাথে কথা বলে। পরে সবাই চলে গেলে তিনি দোকান বন্ধ করে দেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তো কিছুই না, শুধু তার বন্ধু ও ব্যাচমেট হিসাবে তার সাথে ছিলাম। খাতা জব্দ করা হয়নি আমার কাছ থেকে।”
অভিযোগ প্রমাণের পর ইকবাল হোসেনকে জালালাবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব। তবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তাকে পুলিশে সোপর্দ না করে শিক্ষা বোর্ডই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় পরীক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।




