শুরুতে বলা যায়, সিটিজেনস ব্যাংক দুটি বেসরকারি কারাগার কোম্পানির সঙ্গে তাদের ব্যাংকিং সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কোম্পানিগুলো হলো কোরসিভিক (CoreCivic) ও দ্য জিও গ্রুপ (The GEO Group), যারা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন আটককেন্দ্র পরিচালনার জন্য সরকারি চুক্তি পেয়েছিল। ব্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে এই কোম্পানিগুলোকে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছিল।
তবে সম্প্রতি ব্যাংকটির বিরুদ্ধে তীব্র জনমুখী প্রচারণা শুরু হয়। নিউ জার্সির মন্টক্লেয়ার ও জার্সি সিটি—এই দুটি শহরের কাউন্সিল ব্যাংকটিকে হুমকি দেয় যে তারা যদি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক না ছিন্ন করে, তাহলে তারা তাদের জমা অর্থ প্রত্যাহার করবে। এই চাপের মুখেই ব্যাংকটি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘ডি-আইস সিটিজেনস ব্যাংক কোয়ালিশন’ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি মানবিক দুর্ভোগের অর্থায়ন বন্ধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়। সংগঠনটির মতে, বর্তমান ফেডারেল প্রশাসনের আইসিই-এর আটক কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট দুর্ভোগে জড়িত না হওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, সিটিজেনস ব্যাংক নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছে, তাদের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক কারণে। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছে, ফেডারেল সরকার কোরসিভিকের বেশ কিছু স্থাপনা কিনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং জিও গ্রুপের সঙ্গেও একই বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর ফলে কোম্পানি দুটির অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। ব্যাংকটি বলেছে, 'এটি পরিবর্তিত বাণিজ্যিক পরিস্থিতির কারণে নেওয়া একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি।'
প্রসঙ্গত, ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবসা বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে ডিব্যাংকিং বলা হয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের অধীনে ব্যাংক নিয়ন্ত্রকরা ডিব্যাংকিং নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন এবং যেসব ব্যাংক এই কাজে জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের জরিমানা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সিটিজেনস ব্যাংক জানিয়েছে, 'কারো ব্যাংকিং সেবা দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমাদের মতো সব ব্যাংককেই নিয়ন্ত্রক ও চুক্তিভিত্তিক কাঠামো মেনে চলতে হবে।'


