পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ‘লিসবোয়া আউ ভিভো’ ভেন্যুতে জীবন্ত কিংবদন্তি জেমসের কনসার্ট আয়োজিত হয় ২৬ জুলাই সন্ধ্যায়। ঘোষণার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকে বিকেল থেকেই ভেন্যুর সামনে সারিবদ্ধ হন, যাতে সামনের সারিতে জায়গা করে নিয়ে প্রিয় শিল্পীকে কাছ থেকে উপভোগ করতে পারেন। আয়োজনের শুরুতেই পরিবেশনা শুরু করেন পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যান্ডের সদস্য, নৃত্যশিল্পী ও অন্যান্য শিল্পীরা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত হন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা জায়েদ খান। দর্শকসারিতে বয়সের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো ছিল—২৫ বছরের তরুণ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রবীণ, এমনকি প্রবাসে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজন্মের শিশু-কিশোররাও উপস্থিত ছিল। তারা ভিন্ন দেশের সংস্কৃতিতে বড় হলেও বাংলাদেশের এই জীবন্ত কিংবদন্তির গান সরাসরি শুনতে এসেছিল। জেমস মঞ্চে উঠতেই দর্শকদের চিৎকার ও উল্লাসে পুরো ভেন্যু কেঁপে ওঠে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আমি বাংলাদেশে আছি। ধন্যবাদ।’ গান শুরু হতেই হাজারো দর্শক তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। তিনি বরাবরই মঞ্চে মিতভাষী, গানের কথার মাধ্যমেই সব প্রকাশ করেন। ‘দুষ্টু ছেলের দল’ গানে দর্শকেরা দুলে দুলে নেচেছেন, আবার ‘কবিতা’ গান শুনে অনেকে ফিরে গেছেন নিজেদের অতীতের স্মৃতিতে। কনসার্টের এক পর্যায়ে জেমস যখন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গেয়ে উঠলেন, তখন ভেন্যুর পরিবেশ পুরোপুরি বদলে যায়। সবাই যেন নিজের দেশকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে শুরু করলেন। ‘মা’ গানের সময় অনেকের চোখ ছল ছল করে ওঠে—দূরে থাকা মায়ের মুখ মনে পড়ে কারও, কেউ ফিরে যায় শৈশবের স্মৃতিতে। প্রবাসজীবনে গানটি পরিবার, দেশ ও শিকড়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ তা বুঝতে পারেনি। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একের পর এক গান পরিবেশনের পর শেষে জেমস বলেন, ‘তোমরা আজ আছ বলে আমিও আছি। তোমরা ছাড়া আমিও নেই। ভালো থাকবে। একসঙ্গে থাকবে।’ এরপর তিনি গেয়ে ওঠেন ‘হামারি আধুরি কাহানি’—প্রত্যেক প্রবাসী যেন নিজের অসমাপ্ত গল্প, ফেলে আসা দেশ ও স্মৃতিকে খুঁজে পান এই সুরে। আয়োজক কমিটি ‘কাজা দো বাংলাদেশ’ ও ‘নোটিসিয়াস বাংলা’র যৌথ উদ্যোগে এই কনসার্টের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পর্তুগালের মানুষের কাছে বাংলা সংস্কৃতির শক্তি তুলে ধরার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। এই আয়োজন শুধু একটি কনসার্ট ছিল না; এটি ছিল প্রবাসের মাটিতে নিজের পরিচয়, সংস্কৃতি ও শিকড়কে নতুন করে অনুভব করার এক আবেগঘন রাত।
লিসবনের মঞ্চে নগরবাউল জেমস: প্রবাসীদের জন্য এক টুকরো বাংলাদেশ
পর্তুগালের লিসবনে কনসার্ট দিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমস। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাতিয়ে রাখেন। দেশীয় স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে থাকে প্রতিটি গানে।




