কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বালুখালী সীমান্তের নাফ নদীর মধ্যভাগে শূন্যরেখার একটি দ্বীপে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম বদিউল আলম (৪৫), তিনি পালংখালী ইউনিয়নের জুমেরছড়া এলাকার সোনা মিয়ার পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় জেলেরা জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহত বদিউল আলমকে উদ্ধার করে বালুখালীতে নিয়ে আসেন। পরে বিকেল চারটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বদিউল আলম নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের নোয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শূন্যরেখায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি এই মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন। বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উখিয়া-৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি (এএ) পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়েই তিনি আহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরাকান আর্মি প্রায় দেড় বছর ধরে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ মাইন পুঁতে রেখেছে। এর ফলে টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জেলে ও কৃষকরা হতাহত হচ্ছেন। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ কিংবা কৃষিকাজ করতে গিয়ে অনেকেই মাইন বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ৪৬ থেকে ৪৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় (মিয়ানমারের অভ্যন্তরে) মাইন বিস্ফোরণে আবদুল করিম (৪০) নামের আরেক বাংলাদেশির পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এর আগে ২৪ জুন একই উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন শফিউল আলম (৩৫)। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সরকারি হিসাবে, গত এক বছরে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন।