হোয়াটসঅ্যাপে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, ছবি, ভিডিও বা নথি ভুল করে মুছে গেলে ব্যবহারকারীদের প্রায়ই দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি থেকে মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধার করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এর জন্য আগে থেকেই হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ সিস্টেম সক্রিয় রাখা অপরিহার্য। তবে ব্যাকআপেও নির্দিষ্ট সময়ের পরের তথ্য সংরক্ষিত থাকে না। যেমন—ধরা যাক, সর্বশেষ ব্যাকআপ নেওয়া হয়েছে শনিবার। এরপর সোমবার কোনো বার্তা মুছে গেলে সেটি আর ব্যাকআপে পাওয়া যাবে না। তাই তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরুর আগে হোয়াটসঅ্যাপে সর্বশেষ ব্যাকআপের তারিখ ও সময় যাচাই করে নেওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজে থাকা স্থানীয় ব্যাকআপ থেকেও পুরোনো তথ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
বার্তা ও ছবি ফেরত পেতে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে প্রবেশ করে ‘চ্যাটস’ অপশনে গিয়ে ‘চ্যাট ব্যাকআপ’-এ ক্লিক করতে হবে। সেখানে সর্বশেষ ব্যাকআপের তারিখ ও সময় প্রদর্শিত হবে। ব্যাকআপের সময় সঠিক থাকলে ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করার প্রয়োজন হবে। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ আইকনে দীর্ঘক্ষণ চাপ দিয়ে ‘আনইনস্টল’ বেছে নেওয়া বা সেটিংস থেকে অ্যাপটি অপসারণ করা যাবে। এরপর অ্যান্ড্রয়েডে গুগল প্লে স্টোর এবং আইফোনে অ্যাপ স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টলেশনের পর অ্যাপ চালু করে আগের ফোন নম্বরটি ব্যবহার করতে হবে। ওটিপির মাধ্যমে নম্বর যাচাইয়ের পর আগের ব্যাকআপ থেকে চ্যাট পুনরুদ্ধারের জন্য ‘রিস্টোর’ অপশনটি দেখা যাবে। সেটিতে ট্যাপ করলে ব্যাকআপে সংরক্ষিত সব তথ্য আবার ফোনে ফিরে আসবে।
ব্যাকআপ অপশন সচল না থাকলে তথ্য উদ্ধারের বিকল্প উপায় হিসেবে থার্ড-পার্টি রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে। ‘ড.ফোন’-এর মতো বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ মুছে যাওয়া তথ্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। তবে এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করলেই যে সব তথ্য ফিরে পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফাইল মুছে যাওয়ার পর নতুন তথ্য সংরক্ষিত হলে সেগুলো পুরোনো তথ্যের জায়গা দখল করে নিতে পারে, ফলে মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধার করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও ফোনের মডেল, অ্যান্ড্রয়েডের সংস্করণ, স্টোরেজের ধরন এবং তথ্য মুছে যাওয়ার পর ডিভাইসটি কতক্ষণ ব্যবহার করা হয়েছে—এই সব বিষয়ই পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।
ভবিষ্যতে তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যাকআপ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে ব্যাকআপের ব্যবস্থা করা যায়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও নথির অতিরিক্ত কপি কম্পিউটার বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা উত্তম। এতে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপে সমস্যা সৃষ্টি হলেও প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যাবে। সূত্র: বিবিএন টাইমস।




