প্রযুক্তি জগতে নতুন এক প্রবণতা দেখা দিয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এখন আর শুধু ছোট ছোট ভিডিও বা স্ট্যাটাস আপডেটের জায়গা নয়, বরং এগুলো ধীরে ধীরে টেলিভিশনের কাঠামো ধারণ করছে। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম তাদের টিভি অ্যাপ চালু করেছে, যা এই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখন তাদের ফোনের ছোট পর্দা ছেড়ে বড় টেলিভিশন পর্দায় ইনস্টাগ্রামের কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগটি আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি বৃহত্তর রূপান্তরের অংশ, যেখানে প্ল্যাটফর্মগুলো এপিসোডিক প্রোগ্রামিং, মাইক্রোড্রামা এবং ক্রিয়েটর ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর জোর দিচ্ছে। অর্থাৎ, এখন আর কোনো একটি ভিডিও একবার দেখে চলে যাওয়ার বিষয় নয়, বরং দর্শকদের এমন কনটেন্ট দেওয়া হচ্ছে যা ধারাবাহিকভাবে দেখতে হবে, যেমনটি টেলিভিশন সিরিজে দেখা যায়। ফলে ফোনের স্ক্রিন আর টেলিভিশনের পর্দার মধ্যে যে সীমানা ছিল, সেটি ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা। ছোট ভিডিওতে দর্শকদের আগ্রহ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ধারাবাহিক গল্প বা এপিসোডিক ফরম্যাট দর্শকদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে সক্ষম। ইনস্টাগ্রামের টিভি অ্যাপ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া, ক্রিয়েটরদের জন্যও এটি একটি নতুন সুযোগ—তারা এখন নিজেদের কনটেন্টকে আরও পেশাদারভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, যা তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। অনেকেই ভাবছেন, সোশ্যাল মিডিয়া যদি টেলিভিশনের মতোই হয়ে যায়, তাহলে প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল পরিচয় কী থাকবে? এছাড়া, কনটেন্ট তৈরির খরচও বাড়তে পারে, কারণ এপিসোডিক প্রোগ্রামিংয়ের জন্য বেশি পরিকল্পনা ও সম্পদের প্রয়োজন হয়। তবুও, বর্তমান প্রবণতা থেকে স্পষ্ট যে, সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশনের এই মিলন ক্রমেই গভীর হবে, এবং ইনস্টাগ্রামের এই পদক্ষেপ সেই পথেই পরবর্তী ধাপ।




