কুষ্টিয়ার খোকসা শহরে এক সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ খান। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে থানাপাড়ায় নিজের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নাফিজ আহমেদ হলেন খোকসা পৌরসভার প্রয়াত মেয়ার আনোয়ার আহম্মেদ তাঁতারীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা প্রথমে ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর তারা ধারালো চাপাতি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে নাফিজের শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। কেবল কুপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা বাড়ির লোহার গেট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুরো তাণ্ডব চালানোর পর দুইটি মোটরসাইকেলে সাওয়ার হয়ে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুরুতর জখম অবস্থায় নাফিজ আহমেদকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভিকটিমের ডান পায়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর জ্বালা রয়েছে। পাশাপাশি, তার ডান হাতের বাহুতে দুটি হাড় এবং বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল ভেঙে যাওয়ার প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

নিজ ওপর হামলার প্রসঙ্গে হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় নাফিজ আহমেদ খান বলেন, রাতের খাওয়ার পর দলীয় কার্যালয়ের কাজ সেরে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছে তিনি কয়েকজন অপরিচিত যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। তখন তারাই পাল্টা পরিচয় জানতে চায়। তার নাম জানার পরপরই রাত সোয়া দশটার দিকে তারা তাকে হামলার লক্ষ্য বস্তু বানায়।

হামলার কারণ সম্পর্কে নাফিজ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি যাতে সামনের পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে না পারি, সেই পরিকল্পিত উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগের দোসর কিছু সন্ত্রাসী আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।’ তার একমাত্র সন্তান ইফতারিনা খান জানান, হাসপাতালে তার বাবার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, 'ঘটনার সময় আমি বাসাতেই ছিলাম। বাবার চিৎকার শুনে গেটের দিকে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি বাবার সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপ দিচ্ছে। সন্ত্রাসীরা তখন গুলি ও ককটেল ফাটাচ্ছিল।'

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এই নৃশংস হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।