বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল এবার নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণে পা রেখেছে। ইউরোপ মহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপ প্রোক্সিমা ফিউশন সম্প্রতি বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪৬৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউক্লিয়ার ফিউশন এমন এক প্রযুক্তি যা সূর্যের কেন্দ্রে ঘটতে থাকা প্রক্রিয়ার অনুকরণ করে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা রাখে। তবে এই প্রযুক্তিকে বাস্তবে টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করে তোলা অত্যন্ত কঠিন বলে বিবেচিত হয়। প্রোক্সিমা ফিউশন সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে আসছে।

গুগলের এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ফিউশন শক্তি বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রোক্সিমা ফিউশন তাদের সংগ্রহ করা তহবিল ব্যবহার করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ইউরোপের মাটিতে প্রথম বাণিজ্যিক ফিউশন রিয়েক্টর স্থাপন করা।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বেসরকারি সংস্থা ফিউশন শক্তির বাণিজ্যিকীকরণে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রতিযোগিতায় প্রোক্সিমা ফিউশনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে গুগলের মতো বড় বিনিয়োগকারীর সমর্থনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল হলে এই প্রকল্প শক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রোক্সিমা ফিউশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা তাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণের পরই বাণিজ্যিক পর্যায়ে যেতে চায়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেটেন্ট ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানা যায়। গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।