রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই ডাবের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এখন ঢাকায় ১৩০ টাকার নিচে কোনো ডাব পাওয়া যাচ্ছে না, আর আকারে বড় কোনো ডাব কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকার মতো। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলের জন্য ডাব কিনতে আসা জহিরুল ইসলাম জানান, মাত্র কিছুদিন আগেও একই আকারের ডাব ১৪০ টাকায় কিনেছেন। এখন এক পিস ডাবের দাম ১৮০ টাকা নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন তিনি।
বাজারে ডাবের এ দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের প্রধান ডাব উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে বর্ষার আগে তীব্র খরার কারণে গুটি বা 'কড়া' কম এসেছে, যার ফলে গত তিন মাসের চক্রে এখন বাজারে ডাবের যোগান কম। কোকো গ্রিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা মো. সুজন আহমেদ জানান, সাধারণত গুটি থেকে ডাব পরিপক্ব হতে তিন মাস সময় লাগে, আর এই প্রাকৃতিক কারণেই বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তবে শুধু সরবরাহ ঘাটতিই নয়, ডাবের প্রতি চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপক হারে। বিশেষ করে গরমের কারণে ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে হাসপাতালকেন্দ্রিক ডাবের বিক্রি এখন অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন ৮০৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি আগস্টের প্রথম ১৬ দিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৬৬৮ জন। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে ডাবের দাম।
রাজধানীর গ্রিন রোডে ভ্যান থেকে ডাব কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী তানভীর হোসেন বলেন, বেশ কয়েকটি ভ্যান ঘুরে দেখেছেন, ১৩০ টাকার নিচে কেউ ডাব দিতে চাচ্ছে না। ছোট ডাবে পানি এত কম থাকে যে সেটি খাওয়া-না খাওয়া সমান। আর একটু বড় আকার নিলেই দাম ১৮০ টাকার ওপরে চলে যায়। তাই ছেলেকে নিয়ে দুটি ডাব খাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
গাছ থেকে ভোক্তার হাতে ডাব পৌঁছাতে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিটি ধাপে বাড়তি খরচ যুক্ত হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কোকো গ্রিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা মো. সুজন আহমেদ জানান, গ্রামের গাছ থেকে গাছিরা প্রতি পিস ডাব ৮০ টাকার কাছাকাছি দামে সংগ্রহ করছেন। তাঁরা স্থানীয় ব্যাপারী বা আড়তদারের হাতে ১০০ টাকায় বিক্রি করেন। ভোলা, নোয়াখালী ও বরিশাল থেকে ঢাকায় ৩ হাজার পিসের ট্রাকে করে আনা হয়, যার পরিবহন খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলে ঢাকায় পৌঁছাতেই প্রতি ডাবে অতিরিক্ত ১১-১২ টাকা খরচ যুক্ত হয়।
এরপর আড়ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা ডাব কেনেন আরও ২০-৩০ টাকা বেশি দামে, যাতে প্রতি পিসের দাম দাঁড়ায় ১৩০-১৪০ টাকা। মোহাম্মদপুর এলাকার খুচরা ডাব বিক্রেতা মো. আজিম বলেন, আড়ত থেকে কেনার পরে সেগুলো আকার অনুযায়ী আলাদা করেন। ছোট আকারের ডাব ১২০-১৩০ টাকায়, আর বড় ডাব ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছরের ব্যবসায় এবারের মতো এত বেশি দাম আগে দেখেননি। দেড়শ টাকার ওপরে কেনা পড়ে যাওয়ায় ২০০ টাকার কমে বিক্রি করাও সম্ভব হচ্ছে না।




