বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামি শরিয়াভিত্তিক বন্ড বা ‘সুকুক’-এ বিনিয়োগ বরাদ্দের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে মোট বন্ডের ১০ শতাংশ পাবেন, যা আগে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীসহ প্রভিডেন্ট ফান্ড, ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স, ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য যৌথভাবে বরাদ্দ ছিল। এর ফলে সুকুক বন্ডে ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেল।

সোমবার (১৭ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি সব তফসিলি ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি ও বিমা কোম্পানিগুলো ইস্যু করা বন্ডের ৫০ শতাংশ পাবে। অন্যদিকে, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ব্রাঞ্চ ও উইন্ডোজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ বরাদ্দ পাবে প্রচলিত ধারার ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, বিমা কোম্পানি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স, ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী নিয়মে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমার পাশাপাশি প্রচলিত ধারার ইসলামি শাখা এবং উইন্ডোজের জন্য মিলে মোট ৮০ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। প্রচলিত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমার জন্য ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। এছাড়া ব্যক্তি বিনিয়োগকারীসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলে ১৫ শতাংশ বন্ড পাওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে ইসলামি ধারার ব্যাংক এবং ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য বন্ড প্রাপ্তির পথ আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকার বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য সুকুক বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করছে। এই বন্ডে মুনাফার হার প্রচলিত ব্যাংক আমানতের মতোই। ইসলামি শরিয়াভিত্তিক এই বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।