শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান হলে বসবাসরত এক শিক্ষার্থী হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আপত্তি তোলার জেরে শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৯ জুলাই) রাত ১১টার কাছাকাছি সময়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম খাইরুল খন্দকার, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান এবং যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান। তারেক পরিসংখ্যান বিভাগ এবং হাসিবুর পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, হাসিবুর রহমান ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামানের এবং তারেক রহমান সাধারণ সম্পাদক নাড়ম সরকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত সকলে শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

হল সূত্রে জানা যায়, খাইরুল খন্দকার গত ১৬ জুলাই হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রাধ্যক্ষকে উল্লেখ করে ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে তাকে ডেকে নিয়ে যান হাসিবুর ও তারেক। ভুক্তভোগীর বর্ণনামতে, প্রাধ্যক্ষের কাছে কেন দুঃখ প্রকাশ করেননি, সেই প্রশ্নে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তারেক রহমান তাকে ‘থাপ্পড়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার’ হুমকি দেন। এরপর উভয়ে মিলে তাকে বেদম প্রহার করেন, যার ফলে তার বুক, মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে সহপাঠীরা তাকে ক্যাম্পাসের নিকটস্থ একটি বেসরকারি চিকিৎসালয়ে নিয়ে গেলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাকে প্রাথমিক সেবা প্রদান করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত তারেক রহমান ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন, প্রাধ্যক্ষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে ভেবে তারা খাইরুলকে বিষয়টি বুঝাতে গেলে জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও সে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং নিজেই প্রথমে তার গায়ে হাত তোলে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি হয় এবং এতে হাসিবুরের চশমা ভেঙে যাওয়ার সাথে হাত কেটে যায় ও ফোন নষ্ট হয়। হাসিবুর রহমানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান এটিকে সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ ও তিন শিক্ষার্থীর মধ্যকার বিষয় বলে উল্লেখ করে প্রশাসনের হস্তে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। হল প্রাধ্যক্ষ ইফতেখার আহমদ তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও, শিক্ষার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পর ক্যানটিন পরিচালককে তার সাথে কথা বলতে পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে দিবাগত রাত ততালায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের একাংশের নেতা-কর্মীরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তাদের তিনটি দাবি ছিল: এক কার্যদিবসে তদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং আহত শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। উপাচার্য খায়রুল ইসলাম দাবি মানার আশ্বাস দেওয়ায় তারা বিক্ষোভ স্থগিত করেন। উপাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।