চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো বন্যার কারণে স্থগিত থাকায় পড়ুয়ারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় আজ রোববার সকালে নগরের ষোলোশহর এলাকায় অবস্থিত বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর নিকট একটি স্মারকলিপি পেশ করেন পরীক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল। ওই সময় তারা বর্তমান রুটিন অনুযায়ী দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ এবং স্থগিত থাকা বিষয়গুলোর জন্য অন্তত দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে নতুন সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানান। এর পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা চলমান থাকায় তারা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাকি সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের পাঠ্যক্রম শেষ করা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি চান।
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন বোর্ড চেয়ারম্যান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বন্যাকবলিত অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৪টি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিবের সাথে বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথমে চলমান রুটিনের পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে স্থগিত করা বিষয়গুলোর জন্য পৃথক সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নতুন সেটের প্রশ্ন তৈরির মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে জানান, চট্টগ্রাম বোর্ডের প্রায় এক লাখ পরীক্ষার্থীর কারণে সারা দেশের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সব রকমের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকার অটো পাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে না। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চলমান এইচএসসি পরীক্ষা এবং বোর্ডের অধীন জেলাগুলোর সমমানের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলেই সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করে পরীক্ষা পুনরায় শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হবে।




