রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে আজ রোববার ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস–২০২৬’ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ‘দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল’ শীর্ষক এই আয়োজনে তিনি সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের শাসক না ভেবে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ–উল–আলম। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, যিনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে সিভিল সার্ভিসকে রাষ্ট্রের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে সুউচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মশালা বা উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ জনগণের প্রকৃত কল্যাণে আসতে হবে। দেশে সঠিক নীতি প্রণয়নের স্বার্থে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি। বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সব পরিসংখ্যান ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন কিংবা মাথাপিছু আয়—সব ক্ষেত্রেই ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় রূপান্তরিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো কৃষি ও কৃষকদের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। তাই কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর ভিত্তি করে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি বা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে ভোকেশনাল ট্রেনিং বা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান জন্মহার নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

নীতি বা পলিসি মূলত সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের আলোকে প্রণীত হয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যুরোক্রেসির কাজ হলো সেই নীতির আলোকে কর্মসূচি নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন ও আইএমইডির তদারকির মাধ্যমে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা। নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না—এ কথা স্পষ্ট করে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা অঙ্গীকার, যার ওপর জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বিধি মোতাবেক বাস্তবায়ন করাই তাদের মূল দায়িত্ব।