ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অপু কুমার সরকারের জীবনের পথচলা সহজ ছিল না। তিনি নাটোর সদর উপজেলার মল্লিকহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা পেশায় একজন পত্রিকা বিক্রেতা। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ জোগাড় করেন। সীমিত আয়ের মধ্যেই ছেলের পড়াশোনার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা ছিল অবিরাম। তবে আর্থিক বাস্তবতা কখনো কখনো সেই স্বপ্নকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিত।

ঠিক সেই সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায় প্রথম আলো ট্রাস্টের শিক্ষাবৃত্তি। সানিডেইল স্কুলের সহায়তায় পরিচালিত এই বৃত্তি তিনি এইচএসসি পর্যায়ে পান। তার আগে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। বৃত্তিটি শুধু আর্থিক সঙ্কট দূর করেনি, বরং তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করেন অপু। পড়াশোনার খরচের একটি বড় অংশ বহন করতে পেরে তিনি আরও নিবিড়ভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাঁর বিশ্বাস, এই বৃত্তি না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ অনেক বেশি দুর্গম হতো।

বৃত্তি পাওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পরিবার ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতা তাকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে। সেই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ পান। এই অর্জনের পেছনে পরিবারের ত্যাগ ও প্রথম আলোর অবদান তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অপুর কাছে প্রথম আলো শুধু একটি সংবাদপত্র নয়; এটি অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের নীরব সহযাত্রী বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সংস্থাটি প্রমাণ করেছে, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা কেবল কথায় নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ থেকে তাঁর মতো অনেক শিক্ষার্থী নতুন জীবনের অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন অপু। তিনি বলেন, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, সময়মতো পাওয়া একটি ছোট সহায়তা একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। তিনি প্রথম আলো পরিবার, প্রথম আলো ট্রাস্ট এবং এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।