চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়নে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা উন্মুক্ত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এই রুব্রিকস প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে পরীক্ষকদের জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো প্রদান করা হয়েছে, যাতে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি অংশের মূল্যায়নে একই মানদণ্ড অনুসরণ করা সম্ভব হয়।
এইচএসসি ২০২৬ পর্ব শুরু হয় গত ২ জুলাই। প্রথম দিনেই বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঠিক ও ন্যায্য মূল্যায়নের লক্ষ্যে এই নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। রুব্রিকসে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আলাদাভাবে নম্বর বণ্টনের পাশাপাশি গ্রহণযোগ্য উত্তর ও মূল্যায়নের মানদণ্ড সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যে সকল উত্তর পূর্ণ নম্বর পাওয়ার যোগ্য, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য কী হবে, আংশিক নম্বরের ক্ষেত্রে কী বিবেচনা করা হবে এবং ভুল বা অপ্রাসঙ্গিক উত্তরের জন্য কেমন নম্বর দেওয়া হবে—সবই এই নির্দেশিকায় স্থান পেয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন পরীক্ষকের মধ্যে নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং একটি অভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য নম্বর পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্দেশিকায় প্রশ্নভিত্তিক নমুনা উত্তরও যুক্ত করা হয়েছে, যা পরীক্ষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। পূর্ণ নম্বরের জন্য উত্তর হতে হবে সম্পূর্ণ সঠিক, সুসংহত এবং প্রশ্নের সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক। আংশিক নম্বরের ক্ষেত্রে উত্তরটি আংশিক সঠিক বা প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব থাকতে পারে। অন্যদিকে, ভুল বা অপ্রাসঙ্গিক উত্তরের ক্ষেত্রে নম্বর বণ্টনের কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই পদক্ষেপে শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষক ও পরীক্ষকরা মনে করছেন, রুব্রিকস ব্যবহারের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য বিষয়ের জন্যও একই পদ্ধতি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, এই নির্দেশিকা এইচএসসি পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে বিবেচিত হচ্ছে।




