নড়াইল জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের শারীরিকভাবে আঘাত করলে বিপুল অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়ার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে নড়াইল সদর থানায় এই অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগে মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইল শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিজানুর রহমান (৩৮), সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চাচই গ্রামের মিলন জমাদ্দার (২৯), লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী গ্রামের সজিবুল ইসলাম (২৬), শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), একই উপজেলার চাচই গ্রামের ইমন শিকদার (২৪), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), রামেশ্বরপুর গ্রামের সজীব চৌধুরী (২৬), কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার নড়াইল গ্রামের আবদুল্লাহ আল জাবের (৪০) ও সদর উপজেলার সিবানন্দপুর এলাকার জুবায়ের শেখ (২০)।
অভিযোগকারী আমিরুল ইসলাম জানান, ওই ব্যক্তিরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক লেখালেখি এবং ভুয়া ভিডিও পোস্ট করছেন। পাশাপাশি তাঁরা আমিরুল ইসলামসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যান্য নেতাদের মারধর করতে পারলে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা তাঁদের জীবনের জন্য সরাসরি হুমকি বলে তিনি মন্তব্য করেন। আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে দেশের বাইরে বা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে তাঁরা এসব হুমকি দিচ্ছেন। আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে; যদি এখানে প্রতিকার না মেলে, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল জাবের মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি অভিযোগকারীকে চিনেন না। তাঁর সঙ্গে যাদের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গেও তাঁর কোনো পরিচয় নেই। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি শুধু হয়রানিমূলক। তবে বাকি অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




