যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর ৩০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সক্রিয় ও রিজার্ভ সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক বার্ষিক টেস্টোস্টেরন ঘাটতি পরীক্ষার নির্দেশ জারি করেছেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ সেনাবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রাখতে ও উন্নত করতে সহায়ক হবে। কিন্তু বেশ কয়েকজন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিমত, এই সিদ্ধান্তের পেছনে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি নেই, বরং অপ্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরন প্রয়োগের ফলে সেনাসদস্যদের বন্ধ্যত্ব, হৃদরোগসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নানা পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা এসেছে। হেগসেথ আগেই সেনাবাহিনীর ফ্লু টিকা বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করেছিলেন, যদিও পরে এক প্রাদুর্ভাবের পর তা পুনরায় চালু করতে হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ তাদের টিকা সংক্রান্ত উপদেষ্টা প্যানেল থেকে ১৭ জন সদস্যকে অপসারণ করেছে এবং টিকার সুপারিশমালায় সংশোধন এনেছে।

প্রায় ছয়জন পুরুষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন জানিয়েছেন, টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার এই ঘোষণায় তাঁরা বিস্মিত। তাঁদের মতে, এটি অপ্রয়োজনীয় এবং সেনাসদস্যদের ক্ষতিকর চিকিৎসার দিকে ঠেলে দিতে পারে। চার বিশেষজ্ঞ স্পষ্টভাবে বলেছেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সব সেনার টেস্টোস্টেরন মাত্রা পরীক্ষা করলে যুদ্ধপ্রস্তুতি কার্যকর হবে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ নেই।

হেগসেথ অবশ্য বলেছেন, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি সেনাসদস্যদের নিজস্ব ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, সঠিক টেস্টোস্টেরন মাত্রা সেনাদের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা, দীর্ঘায়ু ও কর্মদক্ষতা বাড়াবে। এর মাধ্যমে যুদ্ধপ্রস্তুতি নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট সরবরাহকারী টেলিহেলথ প্ল্যাটফর্ম রুগিয়েটের মেডিক্যাল উপদেষ্টা বোর্ডের ইউরোলজিস্ট কেভিন ম্যাকভেরি বলেন, যেসব রোগীর টেস্টোস্টেরন ঘাটতির সুস্পষ্ট উপসর্গ ছিল, তাদের চিকিৎসার পর মস্তিষ্কের সাড়া প্রদান ও শারীরিক মানসিক শক্তিমত্তার উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন এই প্রমাণ পুরোপুরি অকাট্য নয় এবং এটি শুধুমাত্র উপসর্গযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

পেন্টাগন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তরের নীরবতা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।