কলম্বিয়ার মেটা প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী কৃষক পেরেয়া কোকা চাষ বন্ধ করে আইনি ফসল চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি কাসাভা ও কলার মতো ফসল রোপণের মাধ্যমে আর কখনও কোকা চাষ না করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত সহায়তা অধিকাংশই কখনও তার কাছে পৌঁছায়নি। সড়ক যোগাযোগের অভাব ও বারবার বন্যায় তার উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করাও দুরূহ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে হতাশ হয়ে তিনি আবার কোকা চাষে ফিরে যান। পেরেয়া বলেন, "এটি এক ট্র্যাজেডি। কিন্তু যখন আপনার সন্তান আছে আর কাজ নেই, তখন কী করবেন? যদি কোনো সহায়তা না আসে, তাহলে আবার তা চাষ করাই একমাত্র পথ।"

কোকা পাতা আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফসল যা চা ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে এর বিশাল অংশ কোকেনে প্রক্রিয়াজাত হয়। অনুমান অনুযায়ী, বিশ্বের অবৈধ কোকেনের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে কলম্বিয়া থেকে। গবেষক লুকাস মারিন লিয়ানেসের মতে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় কোকা চাষের কয়েকটি বড় সুবিধা রয়েছে। এতে দ্রুত ফসল তোলা যায়—বছরে তিন থেকে চারবার। পরিবহন সহজ এবং চাষিরা আগেই জেনে নিতে পারেন কী মূল্য পাবেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কিছু এলাকায় কোকা চাষ স্থানীয় পৌর জিডিপি ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০১৬ সালে সরকার ও বৃহত্তম গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের মধ্যে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে পিএনআইএস (ন্যাশনাল কম্প্রিহেনসিভ প্রোগ্রাম ফর দ্য সাবস্টিটিউশন অফ ইলিসিট ক্রপস) নামে প্রতিস্থাপন কর্মসূচি চালু হয়। এর আওতায় প্রায় এক লাখ পরিবারকে কোকা চাষ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবার দুই বছরের মধ্যে ৩ কোটি ৬০ লাখ কলম্বিয়ান পেসো (প্রায় ১১ হাজার ডলার) পাওয়ার কথা ছিল। এলেনা হার্নান্দেজ ১৯৯০-এর দশকে ভালো আয়ের আশায় গুয়াভিয়ারের কোকা উৎপাদনকারী অঞ্চলে চলে আসেন। তিনি একটি ছোট বাড়ি কিনতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু কোকা শিল্প সহিংসতা ও অনিরাপত্তাও নিয়ে আসে। সরকার ম্যানুয়াল নির্মূল, বিমান থেকে ফিউমিগেশন ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উৎপাদন কমানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। তাই ২০১৭ সালে কর্মসূচি চালু হলে তিনি সই করতে আগ্রহী হন। তিনি বলেন, "আমাদের কাছে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য খুবই প্রতিশ্রুতিশীল মনে হয়েছিল।"

প্রথমদিকে কর্মসূচি কার্যকর বলে মনে হয়েছিল। মেটা ও গুয়াভিয়ারের কিছু অংশে কোকা ক্ষেতের জায়গায় লেবু, কলা ও ছোটখাটো পশুপালন শুরু হয়। কিন্তু শুরুতেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। অর্থপ্রদানে বিলম্ব হতো এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রায়ই পৌঁছাত না। গ্রামীণ এলাকায় রাষ্ট্রের দুর্বল উপস্থিতি ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সহায়তা সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্মূল ও নিরাপত্তার ওপর জোর দেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো ২০২২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় পিএনআইএস পিছিয়ে পড়েছিল এবং অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাতে পারছিল না। তবে কিছু কৃষকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মেটার পুয়ের্তো রিকোর দোরালবা বেজারানো জানান, বিলম্বিত সহায়তা আসতে শুরু করায় তার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। "কর্মসূচির আগে আমরা আতঙ্কে থাকতাম। পুলিশ বা সেনাবাহিনী জেলে পাঠাবে ভয়ে কোকা পেস্ট লুকিয়ে রাখতে হতো," তিনি বলেন। এখন তার মনে শান্তি এবং তিনি বলেছেন, তার এলাকার অনেকেই এখন সরকারি সহায়তা পেয়ে কোকা বহির্ভূত ফসল ও খাদ্যপণ্য বিক্রি করতে পারছেন।

প্রতিস্থাপনের চ্যালেঞ্জ কলম্বিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে কোকেনের ব্যাপক চাহিদা এবং নতুন বাজারগুলোর কারণেও জটিল হয়েছে। আন্দিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ সিকিউরিটি অ্যান্ড ড্রাগস-এর সহ-পরিচালক মাইকেল ওয়েনট্রবের মতে, বর্তমানে চাহিদা সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং সরবরাহও সেই অনুযায়ী থাকবে। এর অর্থ দৃশ্যত কলম্বিয়ায় কোকা চাষ অদূর ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি কলম্বিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে 'ভঙ্গুর' হিসেবে বর্ণনা করেন যা গ্রামীণ এলাকায় প্রতিস্থাপন কর্মসূচির কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ২০১৬ সালের শান্তি চুক্তির পর ফার্কের বড় অংশ ভেঙে গেলেও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে এবং প্রায়ই পাচার রুট ও স্থানীয় অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। বর্তমান সরকার 'টোটাল পিস' নীতির মাধ্যমে সব সশস্ত্র ও অপরাধী গোষ্ঠীর সাথে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে অগ্রগতি সীমিত।

গত বছর সরকার পাইলট এলাকায় রেনহাসেমোস নামে নতুন একটি প্রতিস্থাপন কর্মসূচি চালু করেছে যা পিএনআইএস-এর ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। এতে কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেওয়া হবে। এর আওতায় সড়ক উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, ডিজিটাল সংযোগ ও উন্নত আবাসনের মতো বিষয় থাকবে। সরকারি সংস্থার পরিচালক গ্লোরিয়া মিরান্ডা বলেন, "কোকা একটি ব্যবসা। এটি একটি অপরাধমূলক উদ্যোগ, তবে অন্য যেকোনো ব্যবসার মতোই কাজ করে। রেনহাসেমোস শুধু কোকা গাছ নয়, বরং এর আশপাশের পুরো অর্থনীতিকে—প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি-শিল্প থেকে পরিবহন ও লজিস্টিকস পর্যন্ত—প্রতিস্থাপন করতে চায়।" তবে অনেক বিশ্লেষকের কাছে প্রশ্ন রয়ে গেছে যে এই পদ্ধতিগুলো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে কিনা। লিয়ানেসের মতে, কোকা চাষের ক্রমাগত বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে বারবার হস্তক্ষেপ সফল হয়নি।

পেরেয়া এখনও সন্দিহান যে সরকার তার ও তার প্রতিবেশীদের জন্য কোকা ছেড়ে দেওয়ার কোনো সহায়তা নিয়ে আসবে। "রাষ্ট্র আমাদের সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেছে," তিনি বলেছেন। তার জরাজীর্ণ কাঠের ঘরের চারপাশে কোকা গাছ দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জানান, তিনি অপরাধী বলেই নন, বরং এটাই তার একমাত্র বিকল্প বলে কোকা চাষ চালিয়ে যাবেন। "আমরা মাদক পাচারকারী নই—আমি যদি তা হতাম, তাহলে এভাবে বাস করতাম না।"